Showing posts with label Practice of Medicine. Show all posts
Showing posts with label Practice of Medicine. Show all posts

Monday, August 22, 2016

Appendicitis and Homeopathic Treatment.


Appendicitis (এপেন্ডিসাইটিস) : সাধারণত নাভীর নীচে ডানপাশে তলপেটের তীব্র ব্যথাকে এপেন্ডিসাইটিস বলা হয়। এই পজিশনে এপেন্ডিক্স (Appendix) নামে একটি কেঁচোর মতো একটি অংশ আছে ; ইহাতে ইনফেকশন / প্রদাহ হওয়াকেই এপেন্ডিসাইটিস বলা হয়। ইহার প্রধান লক্ষণ হলো প্রথমে ব্যথা (তলপেটের ডানপাশে), তারপরে হয় বমি এবং শেষে হয় জ্বর। সমস্ত পেটই এতো সেনসেটিভ হয় যে, হালকাভাবে স্পর্শ করলেও রোগী ব্যথা পায়। এপেন্ডিসাইটিসের একটি প্রধান লক্ষণ হলো, রোগীর পেটে জোরে চাপ দিয়ে হঠাৎ চাপ ছেড়ে দিলে (Rebound tenderness) রোগী প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে থাকে। সে যাক, এলোপ্যাথিক ডাক্তাররা ৯৯% ভাগ ক্ষেত্রেই অপারেশান ছাড়া এপেন্ডিসাইটিস সারাতে পারে না কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে ১০০% ভাগ কেইস-ই বিনা অপারেশানে সারানো যায়।

Bryonia alba : এপেন্ডিসাইটিসের সবচেয়ে ভালো ঔষধ হলো ব্রায়োনিয়া। কেননা -চাপ ছেড়ে দিলে ব্যথা হয়- এই অদ্ভূত লক্ষণটি ব্রায়োনিয়ায় আছে। সাধারণত ৫০,০০০ (বা 50M), ১০০,০০০ (বা CM) ইত্যাদি উচ্চ শক্তিতে এক মাত্রা খাওয়ানোই যথেষ্ট ; কিন্তু নিম্ন শক্তিতে খেলে রোজ কয়েকবার করে কয়েকদিন খাওয়ানো লাগতে পারে।

Iris tenax : ইরিস টেনক্সকে বলা হয় হোমিওপ্যাথিতে এপেন্ডিসাইটিসের একেবারে স্পেসিফিক ঔষধ। কেননা ইহা যত মানুষের শরীরে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই তলপেটের ডানপাশে তীব্র ব্যথার লক্ষণ পাওয়া গেছে।
* ব্যাপারটি এমন নয় যে, আপনি কেবল ব্রায়োনিয়া আর ইরিস টেনক্স নিয়ে পড়ে থাকবেন। এই দুটি ছাড়াও যদি অন্য কোন ঔষধের লক্ষণ রোগীর মধ্যে পাওয়া যায়, তবে সেটি প্রয়োগেও এপেন্ডিসাইটিস অবশ্যই আরোগ্য হবে। তবে কথা হলো ব্রায়োনিয়া এবং ইরিস টেনক্স ঔষধ দুটির কথা প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে।

Appetite disorder (ক্ষুধার সমস্যা) : ক্ষুধার সমস্যা দুই ধরণের হতে পারে। ক্ষুধা একেবারে কম হওয়া যেমন একটি রোগ তেমনি ক্ষুধা খুব বেশী হওয়াটাও রোগের মধ্যে পড়ে।

Iodium : আয়োডিয়াম ঔষধটি রাক্ষসের মতো ক্ষুধা তৈরী করতে পারে। আয়োডিয়ামের লক্ষণ হলো প্রচুর খায় কিন্তুতারপরও দিনদিন শুকিয়ে যেতে থাকে এবং গরম সহ্য করতে পারে না। যাদের ক্ষুধা খুব বেশী তারা এটি খেলে ক্ষুধা কমে আসবে। অন্যদিকে যাদের ক্ষুধা খুবই কম তারা খেলে ক্ষুধা বেড়ে যাবে। খেতে হবে নিম্নশক্তিতে (Q,৩, ৬) পাঁচ ফোটা করে রোজ তিনবার।

Alfalfa : আলফালফা ঔষধটি নিয়মিত অনেকদিন খেলে ক্ষুধা, ঘুম, ওজন, হজমশক্তি ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়। নিম্নশক্তিতে (Q) দশ ফোটা করে রোজ তিনবার করে খেতে পারেন। দ্রুত ওজন বাড়াতে চাইলে সর্বোচ্চ পঞ্চাশ-ষাট ফোটা করে খেতে পারেন। তবে কোন সমস্যা হলে কমিয়ে খাওয়া উচিত। ইহার স্বাদ যেহেতু খারাপ সেহেতু শিশুদেরকে চিনি বা গুড়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

Nux vomica : নাক্স ভমিকা ঔষধটি ক্ষুধা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ঔষধ। যারা পরিশ্রমের কাজ কম করে কিন্তুটেনশন বেশী করে, দিনের বেশীর ভাগ সময় চেয়ারে বসে থাকে, সারা বছরই পেটের গন্ডগোল লেগেই থাকে, শীত সহ্য করতে পারে না.....এই ধরণের লোকদের ক্ষেত্রে নাক্স ভমিকা ভালো কাজ করে।

Calcarea carbonica : ক্যালকেরিয়া কার্ব নামক ঔষধটি হলো হোমিওপ্যাথিতে সবচেয়ে ভালো ভিটামিন। এটি ক্ষুধাহীনতা, অজীর্ণ, বদহজম, পেটের আলসার, ঘনঘন অসুখ-বিসুখ হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা, স্মায়বিক দুর্বলতা, ব্রেনের দুর্বলতা, অপুষ্টি ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে পারে।

Anaemia (রক্তশূণ্যতা) :- রক্তশূণ্যতা মানে শরীরে রক্ত না থাকা নয় বরং রক্ত প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকা। পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, ঋতুস্রাবের সাথে বেশী রক্ত যাওয়া, গর্ভধারণ, কোন মারাত্মক দুর্ঘটনা বা অসুখে রক্ত নষ্ট হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি কারণে শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে। শরীরে রক্তশূণ্যতা দেখা দিলে চেহারা মলিন-ফ্যাকাসে হয়, দুর্বলতা, ক্লান্তি, বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা, ঘনঘন শ্বাস নেওয়া, জন্ডিস, হাত-পায়ে অবশ অবশ ভাব এবং সুই ফোটানো ব্যথা,মাথা ঘুরানি, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিয়ে থাকে। রক্তশূণ্যতার চিকিৎসায় ঔষধ খেতে হবে নিম্নশক্তিতে (Q,৩, ৬, ৩০) রোজ তিনবার করে অনেক দিন। ঔষধ খাওয়ার পাশাপাশি দুধ, ডিম, লাল গোশত, ফল-মুল, শাক-সবজি ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে।

Ferrum metallicum : ফেরাম মেট হোমিওপ্যাথিতে রক্তশূণ্যতার এক নম্বর ঔষধ। ইহার লক্ষণ হলো সাধারণভাবে মুখের রঙ থাকে ফ্যাকাসে-সাদাটে কিন্তুএকটু আবেগপ্রবন হলেই মুখের রঙ লাল হয়ে যায়। তাছাড়া হাত-পা-মুখে ফোলা ফোলা ভাব থাকে এবং অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কেউ কেউ খাওয়ার পরে বমি করে দেয়। ইহারা সর্বদা শীতে কাঁপতে থাকে এবং সন্ধ্যার দিকে জ্বরে ভোগে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে Ferrum phosphoricum নামক ঔষধটি ফেরাম মেটের চাইতে ভালো কাজ করে থাকে। সুসলারের মতে, প্রথমে খেতে হবে Calcarea phosphorica এবং পরে খাওয়া উচিত Ferrum phosphoricum নামক ঔষধটি।

Lecithinum : ডিমের কুসুম থেকে তৈরী লিসিথিন নামক হোমিও ঔষধটি রক্তশূণ্যতার একটি শ্রেষ্ঠ ঔষধ। বিশেষত যাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের (Haemoglobin) মাত্রা কম থাকে। অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানীর মতে, এটি ব্লাড ক্যান্সার, থেলাসেমিয়া ইত্যাদি মারাত্মক রোগে দারুণ কাজ করে থাকে।

Pulsatilla pratensis : অতিরিক্ত আয়রন জাতীয় ঔষধ খাওয়ার কারণে রক্তশূণ্যতার সৃষ্টি হলে পালসেটিলা প্রযোজ্য। যে-সব মেয়েরা কথায় কথায় কেঁদে ফেলে, মুক্ত বাতাস পছন্দ, পিপাসা কম, গ্যাসট্রিক আলসার এবং মাসিকের গন্ডগোল সারা বছরই লেগে থাকে, তাদের ক্ষেত্রে পালসেটিলা উপকারী।

Cinchona / China officinalis : শরীর থেকে প্রয়োজনীয় তরল পদার্থ বের হয়ে যাওয়ার কারণে রক্তশূণ্যতা দেখা দিলে চায়না খাওয়াতে হবে। যেমন কোন ভাবে শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়া, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো, দীর্ঘদিনের ডায়েরিয়া, মাত্রাতিরিক্ত যৌনকর্ম বা বীযর্পাত, মাসিকের সময় বেশী রক্তপাত ইত্যাদি ইত্যাদি। চায়নার লক্ষণ হলো মাথা ভারী ভারী লাগে, চোখের পাওয়ার কমে যায়, অল্পতেই বেহুঁশ হয়ে পড়া, কানের ভেতরে ভো ভো শব্দ হওয়া, হজমশক্তি কমে যাওয়া, পেটে প্রচুর গ্যাস হওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি।

Chininum arsenicosum : চিনিনাম আর্স ঔষধটিও রক্তশূণ্যতা নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়ে থাকে বিশেষত যেখানে দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ঘামানো ইত্যাদি লক্ষণ বেশী থাকে। পারনিসিয়াস এনিমিয়া (pernicious anaemia) নামক বুড়ো লোকদের মারাত্মক রক্তশূণ্যতাতেও এটি মাঝে মাঝে বেশ উপকার করে থাকে।

Alfalfa : আলফালফা নামক ঔষধটি রক্তশূণ্যতায় খেতে পারেন। এটি ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। অপুষ্টিজনিত রক্তশূণ্যতায় একটি উৎকৃষ্ট ভিটামিন হিসাবে এটি সবাই ইচ্ছে করলে সারা জীবন খেতে পারেন। কেননা ইহার কোন ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই।

Aceticum Acidum : এসিটিক এসিডের রক্তশূণ্যতার লক্ষণ হলো মুখের বা ত্বকের রঙ হয় মোমের মতো চকচকে এবং প্রচুর পানি পিপাসা থাকে।

Calcarea carbonica : শিশু-কিশোর-তরুণ-যুবক-বৃদ্ধ যে-কোন বয়সের লোকদের রক্তশূণ্যতা নিরাময়ের ক্ষেত্রে ক্যালকেরিয়া কার্ব একটি দারুণ ঔষধ। শতকরা পঞ্চাশ ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এটি আশাতীত উপকার করে থাকে। ক্যালকেরিয়া কার্বের লক্ষণ হলো এরা খুব সহজে মোটা হয়ে যায়, শরীরের চাইতে পেট মোটা থাকে, থলথলে নরম শরীর, প্রস্রাব-পায়খানা-ঘাম সব কিছু থেকে টক গন্ধ আসে, হাতের তালু মেয়েদের হাতের মতো নরম (মনে হবে হাতে কোন হাড়ই নেই), মাথা ঘামায় বেশী, মুখমন্ডল ফোলাফোলা ইত্যাদি ইত্যাদি।

Nux vomica : দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যার (বদহজম) কারণে রক্তশূণ্যতা দেখা দিলে নাক্স ভমিকা প্রযোজ্য।

Plumbum metallicum : রক্তশূণ্যতার সাথে যদি দীর্ঘ দিনের কোষ্টকাঠিন্য/শক্ত পায়খানার সমস্যা থাকে, তবে প্রথমেই প্লামবাম ঔষধটি খাওয়ার কথা চিন্তা করতে হবে। এতে এমন পেট ব্যথা থাকে, যাতে মনে হবে পেটের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে কেউ যেন সুতো দিয়ে বেঁধে পিঠের দিকে টানতেছে।

Arsenicum Album : ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড ইত্যাদি মারাত্মক রোগে ভোগার কারণে প্রচুর রক্ত নষ্ট হয়ে রক্তশূণ্যতার সৃষ্টি হলে তাতে আর্সেনিক প্রযোজ্য। আর্সেনিকের লক্ষণ হলো মারাত্মক দুর্বলতা, হাত-পায়ে পানি নামা, খুব দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া (emaciation), বুক ধড়ফড়ানি, টক খাওয়ার আগ্রহ বেড়ে যাওয়া, পিপাসা বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি।

Picricum Acidum : রক্তশূণ্যতায় পিক্রিক এসিডের লক্ষণ হলো ভীষণ দুর্বলতা, সারা শরীরে ক্লান্তি এবং ভার ভার অনুভুত হওয়া, মেরুদন্ডের বরাবরে জ্বালাপোড়া ধরণের ব্যথা, উত্তেজিত হলে সকল কষ্ট বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

Helonias dioica : হেলোনিয়াস রক্তশূণ্যতা নিরাময়ে একটি ভালো ঔষধ বিশেষত সে-সব মহিলাদের জন্য যারা জরায়ু সংক্রান্ত রোগে ভোগছেন, যারা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে কঙ্কালে পরিণত হয়েছেন। ইহার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো রোগের কথা ভাবলে রোগ বেড়ে যায় এবং রোগের কথা ভুলে থাকলে ভালো থাকে।

Aletris farinosa : এটিও মহিলাদের রক্তশূণ্যতার একটি উৎকৃষ্ট ঔষধ বিশেষত উঠতি বয়সী মেয়েদের এবং গর্ভবতীদের। তাছাড়া সে-সব মহিলারা জরায়ু সংক্রান্ত কোন রোগে ভোগছেন, তাদের রক্তশূণ্যতায়ও এটি একটি ভালো ঔষধ।

Natrum muriaticum : নেট্রাম মিউর রক্তশূণ্যতার একটি ভালো ঔষধ। রোগীর চেহারা থাকে ফ্যাকাসে, ভালো খাওয়া-দাওয়া করে কিন্তুদিনদিন শুকিয়ে কঙ্কালে পরিণত হয়, ঘনঘন মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হয়, পায়খানা অধিকাংশ সময় শক্ত থাকে, মাসিকের রক্তক্ষরণ হয় খুবই অল্প, বুক ধড়ফড়ানি, মাঝে মাঝে হার্টবিট মিস হয়, মেজাজ হয় খিটখিটে, শুচিবায়ু গ্রস্ত স্বভাব।

Kali carbonicum : ক্যালি কার্বের প্রধান লক্ষণ হলো দুর্বলতা, বেশী বেশী ঘামানো এবং কোমর ব্যথা। এছাড়া চোখের ওপরের পাতা ফোলা থাকে, ঘুমের মধ্যে পায়ে টাচ করলে চমকে ওঠে, যৌনমিলনের পরে চোখে সমস্যা হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।

Kali phosphoricum : ক্যালি ফস রক্তশূণ্যতা এবং দুর্বলতার একটি অন্যতম শ্রেষ্ট ঔষধ। ইহার রোগীরা অত্যন্ত সেনসিটিভ এবং বদমেজাজী হয়ে থাকে। মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রমের কারণে কঙ্কালে পরিণত হয়েছেন। তাছাড়া হঠাৎ স্পর্শ করলে চমকে ওঠে, যৌনমিলনের পরে দুর্বল হয়ে পড়ে ইত্যাদি লক্ষণও থাকে।

Bashir Mahmud Ellias

Tuesday, July 26, 2016

যকৃতের প্রদাহ ( Hepatitis and Homeopathic Treatment)

সংজ্ঞা ( Definition ):  কোন কারণে যকৃতের তরুণ প্রদাহ এবং সেজন্য ক্রিয়াগত কোন বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাকে যকৃৎ প্রদাহ বলে । Dr . P. C. Das বলেন – “ It is a disease characterized by anorexia, fever, jaundice and hapatomegaly caused by virus ” এই রোগে আক্রান্ত হলে যকৃৎ তার নিজস্ব ক্রিয়া শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং নানাবিধ রোগ উপসর্গ দেখা দেয় ।

কারণ ( Aetiology ):
  1. ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, কালাজ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্লেগ, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ ।
  2. বিকোলাই, যকৃতের অ্যামোবায়োসিস প্রভৃতি রোগ ।
  3. পিত্ত নালীতে অবরুদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি । পিত্ত পাথুরী, জীবাণু সংক্রমণ, পিত্তনালীর সংকোচন । পিত্তনালী, যকৃৎ, পাকস্থলী বা কিডনীতে অর্বুদ সৃষ্টি । ইহাকে অবরোধ জনিত যকৃৎ প্রদাহ Obstructive Hepatitis বলে ।
  4. সুরাপান, ক্লোরোফর্ম, কার্বনটেট্রাক্লোরাইড, আর্সেনিক, স্যাণ্টুনাইন প্রভৃতির বিষক্রিয়া এবং কতিপয় ঔষধের প্রতিক্রিয়াজনিত কারণ ।
  5. লিভারের সিরোসিস । এছাড়া ভাইরাস সংক্রান্ত যকৃৎ প্রদাহ সাধারণত তিনটি কারণে হতে পারে যথা – 1. Virua A . 2. Virus B . 3. Virus A এবং B বহির্ভূত ।
  • Virua A: এই জাতীয় ভাইরাস রোগীর মলে পাওয়া যায় । ইহারা প্রধানত খাদ্য ও পানীয় মাধ্যমে অন্ননালীর সাহায্যে শরীরে সংক্রমিত হয় ।
  • Virus B: এই জাতীয় ভাইরাস রোগীর রক্তে পাওয়া যায় এবং ইহারা Hepatitis Associated Antigen – HAA নামে অভিহিত ।
  • Virus A এবং B বহির্ভূত: এই জাতীয় ভাইরাস সাধারণত জলের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় । মাঝে মাঝে কোন বিশেষ অঞ্চলে এই জাতীয় ভাইরাস রোগ বিস্তার করে ।
লক্ষণানুসারে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন পদ্ধতি:
ঔষধ ও শক্তি > চেলিডোনিয়াম মেজাজ - Q : যকৃতের বিবৃদ্ধি । প্রস্রাব হলুদ । মুখে তিক্ত স্বাদ । গল ব্লাডার বা যকৃতে অবরোধজনিত জণ্ডিস । পিত্ত পাথুরী, চোখ মুখ গায়ের চামড়া হলুদ । মল ছাই অথবা গন্ধকের ন্যায় বর্ণ, জিহ্বায় তিক্ত স্বাদ । ডান স্ক্যাপুলার নীচে বেদনা, ক্ষুধাহীনতা, বমি ভাব । 

ঔষধ ও শক্তি > আর্সেনিক এল্বাম – 6 / 30 : শোক, দুঃখ, ভোঁ, মদ, তামাক পান হেতু । বিষক্রিয়া হেতু, অতিরিক্ত ঔষধ সেবন হেতু । উদরে জ্বালাময় বেদনা, গরমে উপশম । পিপাসা বেশী । বারে বারে অল্প জল পান । যকৃৎ ও প্লীহা বৃদ্ধি, উদরে শোথ । দুর্বলতা, অস্থিরতা, রাত্রে বৃদ্ধি ।


 ঔষধ ও শক্তি > লাইকোপোডিয়াম - 6 / 30 : ভয়, ক্রোধ, উৎকণ্ঠা, জ্বর, মদ্যপান হেতু । যকৃৎ অঞ্চলে অনবরত বেদনা, খিল ধরা । বেদনা ডানদিক হতে বামদিকে সম্প্রসারণ । যকৃৎ শক্ত ও কঠিন । আহারের পর পেট ফুলে উঠে । বায়ু সঞ্চয় । দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য ও মাঝে মাঝে উদরাময়, উদর শোথ, বার বার মুত্র ত্যাগ ।

ঔষধ ও শক্তি > ল্যাকেসিস - 6 / 30 : অত্যন্ত বাচালতা, প্রাতকালে বিমর্ষ । যে কোন খাদ্যে যন্ত্রণা হয় । ভীষণ ক্ষুধা, ক্ষুধা সহ্য করতে পারেনা । পাকস্থলীতে খামচানো ব্যথা । আহারে উপশম কিন্তু পরক্ষণেই বেদনা । ঢোক গিলতে গেলে লাগে কিন্তু কঠিনদ্রব্যে লাগে না ।

ঔষধ ও শক্তি > মার্কুরিয়াস ভাইঃ – 3 / 6 : সিফিলিস, গনোরিয়ার ইতিহাস । অ্যামিবা ষ্ট্রেপটো কক্কাই সংক্রমণ । যকৃৎ শক্ত, বৃদ্ধি ও বেদনা, স্থুল বেদনা । নড়াচড়া, রাত্রে বেশী, ডান পাশে শুতে পারে না । জণ্ডিস, স্রাবে দুর্গন্ধ ।

ঔষধ ও শক্তি > ল্যাপটাণড্রা – Q : যকৃতের কণকণে ব্যথা, পিত্তকোষ বেদনা । জিহ্বা হলুদ বর্ণের ময়লার প্রলেপ । কালচে দুর্গন্ধময় মল, জণ্ডিস । আলকাতরার মত কালো মল, নাভিদেসে বেদনা ।

ঔষধ ও শক্তি > চায়না - 6 / 30 : অবসাদকর স্রাব, জীবনীশক্তির ক্ষয় । প্লীহা ও যকৃৎ স্ফীত, বর্ধিত । জণ্ডিস, তলপেটে বায়ু জমে । পেটের ডান দিকে বেদনা, ফেনাময় অজীর্ণ মল ।


ঔষধ ও শক্তি > নেট্রাম সালফ - 6 / 30 : গনোরিয়া চাপা দেয়া, স্যাঁতসেঁতে বসবাস । ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়া ভোগের পর যকৃৎ প্রদাহ, জণ্ডিস, পিত্ত বমি । পেটে ভয়ানক বেদনা, সুচ ফুটানো বেদনা । চাপ দিয়ে শুতে পারে না । প্রাতকালে উদরাময় ।


ঔষধ ও শক্তি > থেরিডিয়ন - 6 / 30 : T. B. যুক্ত ব্যক্তি, মাথা ঘোরে । মাথায় যন্ত্রণা, সামান্য নড়াচড়ায় বমি । বাম পার্শ্বের প্লীহা স্থানে হুল ফুটানো ব্যথা, মাথায় অসহ্য বেদনা, নড়াচড়ায় বৃদ্ধি ।


বায়োকেমিক ঔষধ
ঔষধ ও শক্তি > ফেরাম ফস – 3x / 6x : যকৃৎ পীড়ায় খুব উপকারী । প্রথমাবস্থায় যখন জ্বর, লিভার বেদনা এবং অস্থিরতার ভাব বর্তমান থাকে তখন প্রযোজ্য । রোগের প্রকোপকালে ২/১ ঘণ্টা অন্তর সেবন করলে উপশম বোধ হয় ।


ঔষধ ও শক্তি > ক্যালি মিউর – 6x: লিভারের কাজ বিঘ্নিত । জিহ্বা সাদা ময়লাযুক্ত, মলের রঙ সাদা । লিভার অঞ্চলে এবং ডানদিকে বেদনাবোধ । জণ্ডিস । পিত্তের দোষ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য । শীত শীত ভাব সহ কামলা রোগের সৃষ্টি।


ঔষধ ও শক্তি > নেট্রাম সালফ - 6x: ক্রোধ হতে জণ্ডিস । মল সবুজাভ ও পিত্তযুক্ত । চোখ ও গায়ের চামড়া হলুদ । লিভার আড়ষ্টভাব, প্রচণ্ড বেদনা । গলব্লাডার অঞ্চলে এত বেদনা যে রোগী অস্থির হয়ে পড়ে ।


জণ্ডিস উপসর্গ ( Complication ):
যকৃৎ প্রদাহ যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় তবে নানাবিধ জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে যেমন লিভার ফোঁড়া ( Liver Abcess ) হতে পারে । অনেক সময় লিভার ধীরে ধীরে ছিবড়ার মত হয়ে যায়, উহাকে বলে Cirrhosis of liver । অনেক সময় Liver Cancer হতে পারে ।

রোগ নির্ণয় ( Diagnosis ):
পিত্ত বমি, লিভার ব্যথা, বামস্কন্ধে ব্যথা, বুকে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখে এই রোগ নির্ণয় করা যায় । এছাড়া X-Ray করলে লিভারের স্বাভাবিক ভাবটি ধরা পড়ে । Ultra sonography of liver, gall biadder, pancreas প্রয়োজন ।

পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা ( Diet and Management ):
যেহেতু লিভার মানবদেহের পরিপাক, রক্ত শোধন, খাদ্য সঞ্চয় প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে সেজন্য এই যন্ত্রটি যাতে সুস্থ থাকে এবং সবল থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ । লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর অথবা লিভারের কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন কোন কাজ করা উচিৎ নয় । ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, বিকোলাই প্রভৃতি রোগ লিভারের যথেষ্ট ক্ষতি করে । অতএব ইহার যথার্থ চিকিৎসার প্রয়োজন । অতিরিক্ত বা অনিয়মিত পানাহার, গুরুপাক দ্রব্য আহার, উত্তেজক বা উগ্র দ্রব্য পান, অতিরিক্ত শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম পরিহার করা উচিৎ । সাধারণ স্বাস্থ্য সম্মত নিয়মগুলো পালন করা উচিৎ । যথেচ্ছ ঔষধ গ্রহণের ফলে আজকাল লিভারের দোষ অতি ব্যাপক ভাবে দেখা দিয়েছে । সংক্রমণ, যকৃৎ প্রদাহের ক্ষেত্রে আমাদের খদ্য পানীয় সম্বন্ধে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে । ক্লোরিন হেপাটাইটিসের ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে । এইজন্য ক্লোরিন মিশিয়ে পরিশোধন করে নেয়া উচিৎ । রক্ত প্রদানের ক্ষেত্রে রক্ত ভাইরাস যুক্ত কিনা সে বিষয়ে সুনিশ্চিত হতে হবে । সংক্রামক যকৃৎ প্রদাহের ক্ষেত্রে রোগীর পক্ষে পূর্ণ বিশ্রাম দরকার । যতদিন পর্যন্ত রোগী সুস্থ হয়ে না উঠে ততদিন পর্যন্ত বিশ্রামের প্রয়োজন । লঘু ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে । খাদ্যে কোন চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকবে না । রোগীর জন্য গ্লুকোজ পানীয় এবং প্রোটিনযুক্ত খাদ্যের ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন । খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে রোগীর ইচ্ছা এবং অনিচ্ছা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা প্রয়োজন । রোগীর সেবাকারীদের স্বাস্থ্যসম্মত বিধিগুলো কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে । রোগীর মলমুত্র অপসারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । রোগী যদি দীর্ঘদিন জণ্ডিস রোগে আক্রান্ত হয় তৎসহ বমি ও বমিভাব, ক্ষুধাহীনতা জ্বর, লিভার বেদনা, চর্ম উদ্ভেদ ইত্যাদি থাকে তবে বুঝতে হবে অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে । আজকাল অত্যাধুনিক বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে বটে কিন্তু সাধারণ লোকের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় । অতএব খাদ্য, পানীয়, বিশ্রাম ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে যাতে রোগ না হয় ।

(From-Dr Shakhoat Hossen )

Arthratis and Homeopathic Treatment

 যেকোনো বয়সের পুরুষ কিংবা মহিলা- যে কারো হতে পারে আর্থ্রাইটিস বা গ্রন্থিবাত বা সন্ধিপ্রবাহ। প্রতি পাঁচজনে একজন লোকের আর্থ্রাইটিস থাকে। এটি নির্দিষ্ট একটি রোগ নয়- অস্থিসন্ধি, অস্থিসন্ধির পাশের মাংসপেশি, টেনডন ইত্যাদির অনেকগুলো অসুখকে একসঙ্গে আর্থ্রাইটিস বলে। সবচেয়ে বেশি মানুষ অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সমস্যায় ভুগে । সাধারণত অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে কোমর, হাঁটু ও হাতে ব্যথা হয়।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে হাতের কবজিসহ শরীরের অন্যান্য অংশে ব্যথা বেশি হয়, তুলনামূলকভাবে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা কম হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধীরে ধীরে হয়। প্রাথমিক লক্ষণ হল- শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করলে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ বিনা কারণে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়, এক বা একাধিক অস্থিসন্ধি ফুলে যায় ও ব্যথা করে, অস্থিসন্ধির জড়তা বা স্টিফনেস দেখা দেয়- বিশেষ করে ঘুম থেকে ওঠার পর অথবা দীর্ঘসময় বসে থেকে ওঠার সময় এ সমস্যা হয়।
ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রমের পর অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা হয়, অস্থিসন্ধিতে কড়মড় শব্দ হয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বেশি হয় হাঁটুর জয়েন্টে- উঁচু কোথাও উঠতে গেলে হাঁটুতে বেশি চাপ লাগে। হাতে ভারী বোঝা বহন করা কষ্টকর হয় এবং হাঁটু ফুলে যায়। কোমরে হলে নড়াচড়া করা কঠিন হয়- ব্যথা কোমরের সঙ্গে সঙ্গে কুঁচকি, উরু এমনকি হাঁটুতেও হতে পারে।
হাতের মধ্যে বৃদ্ধাঙুলে বেশি হয়- এসময় আঙুলে ব্যথা হয়, ফুলে যায়, ঝিমঝিম করে এবং জয়েন্টের আশপাশে গোটার মতো গুটি হয়। মেরুদণ্ডে হলে ঘাড় ও কোমরে উভয় স্থানে ব্যথা হতে পারে। কখনো কখনো হাত-পা ঝিমঝিম করে। 
যাদের ঝুঁকি বেশি 
বয়স : বয়স ৬৫-র বেশি হলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তবে যেকোনো বয়সেও হতে পারে।
 লিঙ্গ : বয়স ৪৫-এর আগে ছেলেদের বেশি হয়, ৪৫-এর পরে মেয়েদের বেশি হয়। 
আঘাত : অস্থিসন্ধিতে যেকোনো ধরনের আঘাত পেলে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে যারা পেশাগত কারণে শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন বা আঘাতের ঝুঁকিতে থাকেন, যেমন খেলোয়াড়, তাদের এ রোগ বেশি হয়। বেশি 
ওজন : শরীরের ওজন যাদের বেশি অস্টিওআর্থ্রাইটিস তাদের বেশি হয়। সাধারণ স্থূল শরীরের মানুষের হাঁটুতে রোগটি বেশি দেখা দেয়। 
বংশগত : কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে দেখা যায়। রোগ নির্ণয় রোগের ইতিহাস ও রোগের ধরন দেখে রোগ নির্ণয় করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। যেমন এক্স-রে, জয়েন্ট অ্যাসপিরেশন ইত্যাদি। 
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এটি এক ধরনের অটোইমিউন অসুখ। এতে শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণেই আপনাআপনি কিছু টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অস্থিসন্ধির বহিরাবরণীতে (সাইনোভিয়াম) প্রদাহ হয়। এ কারণে অস্থিসন্ধি ও এর আশপাশে ব্যথা হয়, জড়তা তৈরি হয়, ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় এবং শরীরে জ্বরজ্বর অনুভূতি হয়। এতে অস্থিসন্ধির আকারের বিকৃতিও ঘটে। এটি যত দিন যায় আরো তীব্র হতে থাকে। মাঝেমধ্যে ব্যথা ও ফোলা আপনিতেই কমে যায়, আবার বাড়ে। অস্থিসন্ধি ছাড়াও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায় চোখ, ফুসফুস ও হার্ট। লক্ষণ রোগটি দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক। তাই কখনো কখনো লক্ষণ প্রকাশ পায়, আবার কিছুদিন কোনো লক্ষণই থাকে না। সাধারণত লক্ষণ হিসেবে থাকে- * ঘুম থেকে ওঠার পর প্রায় এক ঘণ্টা বা এর চেয়ে বেশি সময় অস্থিসন্ধিসহ শরীরের কিছু অংশে ব্যথা ও জড়তা (স্টিফনেস) থাকে। * হাতের আঙুল, কনুই, কাঁধ, হাঁটু, গোড়ালি ও পায়ের পাতায় বেশি সমস্যা হয়। * সাধারণত শরীরের উভয় পাশ একসঙ্গে আক্রান্ত হয়। যেমন- হাতে হলে দুই হাতের জয়েন্টই একসঙ্গে ব্যথা করে, ফুলে যায় ইত্যাদি। * শরীর দুর্বল লাগে, জ্বরজ্বর অনুভূতি হয়। ম্যাজম্যাজ করে। * কারো কারো ক্ষেত্রে ত্বকের নিচে এক ধরনের গুটি দেখা যায়, যা ধরলে ব্যথা পাওয়া যায় না। কারণ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মূল কারণ এখনো অজানা। তবে গবেষকরা দেখেছেন, কিছু ফ্যাক্টর থাকলে রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যেমন- বংশগত কারণ। যাদের বংশে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ইতিহাস আছে, তাদের রোগটি বেশি হতে দেখা যায়। পরিবেশগত কারণেও রোগটি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ধরনের কারণের মধ্যে আছে ইনফেকশন। রোগ নির্ণয় একই সঙ্গে অনেকগুলো অস্থিসন্ধিতে, শরীরের ডান ও বাঁ পাশে একই সঙ্গে হলে প্রাথমিকভাবে ধরে নেওয়া হয়, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হয়েছে। এটি নিশ্চিত করতে আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে আছে রক্তের পরীক্ষা। ৭০-৯০ শতাংশ রোগীর রক্তে রিউমাটয়েড অ্যান্টিবডির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। বাকি ১০-৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে রক্তে অ্যান্টিবডি থাকে না। রক্তের আরেকটি পরীক্ষা, ইরাথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেটও মাঝেমধ্যে করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া এক্স-রেও লাগে।

 আর্থ্রাইটিস এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
Aconitum napellus : একোনাইট ব্যথার একটি সেরা ঔষধ। সাধারণত ভয়ঙ্কর ধরণের ব্যথা, ছুড়ি মারার মতো ব্যথা, হুল ফোটানোর ব্যথা, ব্যথার চোটে দম বন্ধ হয়ে আসে, ব্যথা যদি হঠাৎ দেখা দেয় এবং ব্যথার চোটে যদি ‘এখনই মরে যাব’ এমন ভয় হতে থাকে, তবে একোনাইট খেতে হবে।

Arnica montana : যে-কোন ধরনের আঘাত, থেতলানো, মচকানো, মোচড়ানো বা উপর থেকে পতনজনিত ব্যথায় আর্নিকা খেতে হবে। পেশী বা মাংশের ব্যথায় আর্নিকা এক নম্বর ঔষধ। শরীরের কোন একটি অঙ্গের বেশী ব্যবহারের ফলে যদি তাতে ব্যথা শুরু হয়, তবে আর্নিকা খেতে ভুলবেন না। যদি শরীরের কোন অংশে এমন তীব্র ব্যথা থাকে যে, কাউকে তার দিকে আসতে দেখলেই সে ভয় পেয়ে যায় (কারণ ধাক্কা লাগলে ব্যথার চোটে তার প্রাণ বেরিয়ে যাবে); এমন লক্ষণে আর্নিকা প্রযোজ্য। আঘাত পাওয়ার কয়েক বছর পরেও যদি সেখানে কোন সমস্যা দেখা দেয়, তবে আর্নিকা সেটি নিরাময় করবে।

Bryonia alba : মাথা ব্যথা, জয়েণ্টের ব্যথা, হাড়ের ব্যথা, মাংশের ব্যথা, বুকের ব্যথা, বাতের ব্যথা প্রভৃতিতে ব্রায়োনিয়া সেবন করতে পারেন যদি সেই ব্যথা নড়াচড়া করলে বেড়ে যায়। ব্রায়োনিয়ার লক্ষণ হলো আক্রান্ত অঙ্গ যত বেশী নড়াচড়া করবে, ব্যথা তত বেশী বৃদ্ধি পেতে থাকে।

Rhus Toxicodendron : পক্ষান্তরে মাথা ব্যথা, জয়েণ্টের ব্যথা, হাড়ের ব্যথা, মাংশের ব্যথা, বুকের ব্যথা, বাতের ব্যথা প্রভৃতিতে রাস টক্স সেবন করতে পারেন যদি সেই ব্যথা নড়াচড়া করলে কমে যায়। রাস টক্সের লক্ষণ হলো আক্রান্ত অঙ্গ যত বেশী নড়াচড়া করবে, ব্যথা তত বেশী কমতে থাকে। খুব ভারী কিছু উঠাতে গিয়ে কোমরে বা শরীরের অন্য কোন স্থানে ব্যথা পেলে রাস টক্স এক নাম্বার ঔষধ।

Chamomilla : যদি ব্যথার তীব্রতায় কোন রোগী দিগ্‌বিদিক জ্ঞানশূণ্য হয়ে পড়ে, তার ভদ্রতাজ্ঞানও লোপ পেয়ে যায়, সে ডাক্তার বা নার্সকে পযর্ন্ত গালাগালি দিতে থাকে; তবে তাকে ক্যামোমিলা খাওয়াতে হবে। ক্যামোমিলা হলো অভদ্র রোগীদের ঔষধ।

Colchicum autumnale : কলচিকাম গেটে বাত বা জয়েন্টের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। ছোট ছোট জয়েন্টের বাতে এবং বিশেষত পায়ের বৃদ্ধাঙুলের বাতের ব্যথায় কলচিকাম প্রযোজ্য। কলচিকামের প্রধান লক্ষণ হলো খাবারের গন্ধে বমি আসে এবং আক্রান্ত অঙের জোর/শক্তি কমে যায়।

Hypericum perforatum : যে-সব আঘাতে কোন স্মায়ু ছিড়ে যায়, তাতে খুবই মারাত্মক ব্যথা শুরু হয়, যা নিবারণে হাইপেরিকাম খাওয়া ছাড়া গতি নেই। শরীরের সপর্শকাতর স্থানে আঘাত পেলে বা কিছু বিদ্ধ হলে হাইপেরিকাম খেতে হবে ঘনঘন। যেমন- ব্রেন বা মাথা, মেরুদন্ড, (পাছার নিকটে) কণ্ডার হাড়ে, আঙুলের মাথায়, অণ্ডকোষে ইত্যাদি ইত্যাদি। (তবে যে-সব ক্ষেত্রে পেশী এবং স্নায়ু দুটোই আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে বলে মনে হয়, তাতে আনির্কা এবং হাইপেরিকাম একত্রে মিশিয়ে খেতে পারেন।) আঘাতের স্থান থেকে প্রচণ্ড ব্যথা যদি চারদিকে ছড়াতে থাকে বা খিঁচুনি দেখা দেয় অথবা শরীর ধনুকের ন্যায় বাঁকা হয়ে যায় (ধনুষ্টঙ্কার), তবে হাইপেরিকাম ঘনঘন খাওয়াতে থাকুন।

Ledum palustre : সূচ, আলপিন, তারকাটা, পেরেক, টেটা প্রভৃতি বিদ্ধ হলে ব্যথা কমাতে এবং ধনুষ্টঙ্কার / খিচুনি ঠেকাতে লিডাম ঘনঘন খাওয়ান। অর্থাৎ যে-সব ক্ষেত্রে কোনকিছু শরীরের অনেক ভেতরে ঢুকে যায়, তাতে লিডাম প্রযোজ্য। এই ক্ষেত্রে লিডাম ব্যথাও দূর করবে এবং ধনুষ্টংকার হলে তাও সারিয়ে দেবে। চোখে ঘুষি বা এই জাতীয় কোনো আঘাত লাগলে লিডাম এক ঘণ্টা পরপর খেতে থাকুন। বাতের ব্যথায় উপকারী বিশেষত যাদের পা দুটি সব সময় ঠান্ডা থাকে।

Pulsatilla pratensis : পালসেটিলা’র ব্যথার প্রধান লক্ষণ হলো ব্যথা ঘনঘন স্থান পরিবর্তন করে। আজ এক জায়গায় তো কাল অন্য জায়গায় কিংবা সকালে এক জায়গায় তো বিকালে অন্য জায়গায়।

Lac caninum : ল্যাক ক্যান এর ব্যথার প্রধান লক্ষণ হলো ব্যথা ঘনঘন সাইড/ পার্শ্ব পরিবর্তন করে। আজ ডান পাশে তো কাল বাম পাশে কিংবা সকালে সামনের দিকে তো বিকালে পেছনের দিকে।
সতর্কতাঃ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া ঝুকিপূর্ণ।

Monday, April 11, 2016

Anal Fissure and Homeopathic Treatment

Anal fissure is a laceration, crack or tear in the vertical axis of the anal canal due to repeated trauma by hard stool.

Causes of anal fissure
The exact cause is unknown. Symptoms usually occur after the stretching of the anus from a large, hard stool.




Risk factors involved
  • Constipation
  • Prolonged diarrhea
  • Multiple pregnancies
  • Crohn’s disease
  • Insertion of rectoscope, endoscope
  • Anal cancer
  • Tuberculosis
  • Immune system disorders
Sign and symptoms of anal fissure
Onset of acute anal fissure is characterized by tearing, cutting, or burning pain during or immediately after bowel movement. A few drops of blood may streak toilet paper or underclothes. Painful anal sphincter spasms result from ulceration of “sential pile” (swelling at the lower end of the fissure). A fissure may heal spontaneously and completely or it may partially heal and break open again. Chronic fissure produces scar tissue that hampers normal bowel evacuation.

Diagnosis
Colonoscopy showing a longitudinal tear and typical clinical feature help establish the diagnosis. Digital examination that elicits pain and bleeding supports the diagnosis. Gentle traction on perianal skin can create sufficient eversion to visualize the fistula directly.

Homeopathic treatment for anal fissure
Homeopathy is one of the most popular holistic systems of medicine. The selection of remedy is based upon the theory of individualization and symptoms similarity by using holistic approach. This is the only way through which a state of complete health can be regained by removing all the sign and symptoms from which the patient is suffering. The aim of homeopathy is not only to treat anal fissure but to address its underlying cause and individual susceptibility. As far as therapeutic medication is concerned, several remedies are available to treat anal fissure that can be selected on the basis of cause, sensations and modalities of the complaints.  For individualized remedy selection and treatment, the patient should consult a qualified homeopathic doctor in person. There are following remedies which are helpful in the treatment of anal fissure:

Aesculus hip – anus, dry, aching; rawness and soreness is marked; burning sensation; itching and fullness; pain like a knife sawing backward; pain in anus about an hour after stool; burning in anus with chills up and down back.

Causticum – anal fissure which tend to dry up, have a dark-brown or purple edges; bleeding from anus after walking.

Berberis – violent burning pain in anus during stool; as if surrounding parts were sore, constant and frequent desire for stool.

Graphites – anal fissures which have recently occurred; caused by large fecal masses; irritability; frequent desire for passing stool is not often associated with anal fissures; soreness and smarting in the anus; aggravation of complaints from sitting and night; severe constipation with smarting of parts and fissure of the anus; the anus is very sore associated with knotty stool covered with mucus.

Lachesis – anal fissure with sensation as if little hammers pecking away in fissured parts; tormenting urging, but not to stool; itching at anus, worse after stool.

Paenoia officinalis – there is fissures with much oozing. Burning, biting and itching in the anus lasting several hours after stool; the anus is offensively moist and sore, smarts all the time.

Sulphur – helps when the anus itches and burns; but is relieved by cool compresses; the area around the anus is extremely red, usually from painless diarrhea; the person wants to have a bowel movement immediately after waking up early in the morning.
 
Hydrastis – anal fissure with burning and smarting pain in the anus and rectum after each stool; this pains lasts for hours after stool, hot sensation in bowels, pain in abdomen and giddiness is also associated with; nodulated, dry, hard stool.

Ratanhia – sensation as if broken pieces of glass were in the anus; anus burns after hours of stool; fetid, thin diarrhea; hemorrhoids burn; fissures in the anus, with great constriction; burning like fire; temporarily relieved by cold water.

Sedum acre – anal fissures associated with hemorrhoids.

Platinum met – anal fissures with crawling and itching in the anus.

Petroleum – anal fissures with diarrhea; herpes and small boils around at the verge of the anus.

Ignatia – prolapse of rectum with fissures and hemorrhoids; pains shooting upward after stool, even after a loose stool; pain in the rectum at the same hour each day, aggravation from walking or standing.

Nitric acid – sharp, sphincter like cutting pains in the rectum during stool; there is sensation of burning after stool; sensation of constriction in the anus.

Silicea – anal fissures caused due to constipation; stool is very hard, has to remove mechanically; sphincter ani seem tightly to resist the effort till suddenly stool passes.

Food Poisoning and Homeopathic Treatment

Definition
A term used to describe illness suspected of being caused by contaminated food (or beverages). Food poisoning can affect all ages. Outbreaks can affect several members of a household, customers who dined at the same restaurant, nursing home patients, cruise ship passengers, university students, children in day care, or shoppers who bought contaminated food in a store.

Causes of food poisoning
Certain bacteria such as campylobacter, Escherichia coli, Salmonella, and others. Botulism is rare, life threatening food poisoning.

Virus infection such as Norwalk virus (a common contaminent of shelfish), adenovirus, and rotavirus.
Chemical causes such as contamination with insecticide or food served in lead-glazed pottery.
Eating plants or animals that contain a naturally occurring poison, such as mushrooms or toadstools. Shellfish may contain a toxin that is not destroyed by cooking.

Risk increases with
  • Eating food that is improperly prepared
  • Lack of good hygiene when preparing food.
  • Drinking water or eating raw foods when traveling in a foreign country.
Symptoms and sign
Stomach pain, nausea, vomiting, diarrhea, and fever are among the most common symptoms of food poisoning;  dehydration often follows, in some cases, illness can be severe and even fatal, with widespread symptoms affecting not just the digestive organs but other parts of the body such as the kidneys and nervous system. Hemolytic uremic syndrome, which arises from E.coli infection, can result in bloody diarrhea followed by kidney failure and death. Botulism affects nervous system and can lead to meningitis or, in pregnant women, spontaneous abortions.
The time it takes for symptoms of food poisoning to develop varies, depending on the source of the illness. With bacterial toxins that are formed before ingestion, the onset of symptoms is relatively rapid.
Food poisoning caused by organisms that produce toxins after ingestion, or by organisms that directly infect the gastrointestinal cells, typically takes longer to develop, usually from several hours to a few days.
Depending on the type of poisoning, symptoms can be shortlived or prolonged.
Diagnosis of food poisoning
Diagnosis rests on the food history and symptoms followed by specific laboratory testing of suspect food (if available), feces, and blood.
Prevention of food poisoning
  • Avoid raw seafood or meat
  • Avoid unpasteurized food products
  • Property cook and store food.
  • Keep food preparation areas and utensils clean.
  • Throw food items away that are old, have an “off” smell, or those in bulging tin cans.
  • Always wash hands before preparing food.

Homeopathic remedies for food poisoning

Here are some homeopathic remedies to consider for food poisoning or similar gastrointestinal complaints.

Arsenicum: Bad effects of spoiled fish, meat and bad water. Burning pain in abdomen, person feels chilly, restless, anxious, thirsty for sips of water. Vomiting and diarrohea at the same time. Better for warmth and warm drinks, worse from cold drinks and sight or smell of food.

Lycopodium: Bad effects of shellfish especially oysters.

Pulsatilla: Stomach disorders from eating cakes, rich foods, ice-cream, spoiled meats and rotten fish.

Nux Vomica: Bad effects of overindulgence in food and wine, fatty foods, spicy foods and alcohol.  Symptoms of cramps, hangovers, wind, pressure, and vomiting which does not relieve.

Urtica Urens: Ailments from eating shellfish with allergic skin reaction.

China: This it an excellent remedy to help promote recovery after fluid loss which has arisen because of symptoms such as persistent sweating, vomiting, diarrohea causing exhaustion and dehydration.

Rehydration is essential to replace the enormous amounts of fluids lost during food poisoning.

NB: Food poisoning can be potentially life threatening so seek medical assistance if symptoms still persist after 24 hours or you experience continued abdominal pain, blood in the stools, difficulty focusing, double vision, convulsion or paralysis and severe dehydration. 

A well selected homeopathic remedy can help speed up the recovery process aiding the body in ejecting the poisons as well as helping with recuperation of exhaustion and rehydration.

Sunday, August 23, 2015

Leucorrhoea ‍and its Homeopathic treatment (প্রদর স্রাব এবং তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা)

Leucorrhoea (প্রদর স্রাব)
মাসিক ঋতুস্রাব ব্যতীত কখনো কখনো যোনিপথে শ্লেষ্মার ন্যায় স্রাব নির্গত হয়। ইহাকে প্রদর বা Leucorrhoea বলে। ঋতুস্রাব শুরু হইবার পূর্বেও বালিকাগণের এইরূপ হইতে পারে। সাধারনতঃ শ্বেত বর্ণের স্রাব হয় বলিয়া ইহাকে শ্বেত প্রদর বলে। ক্ষেত্র বিশেষে স্রাবের বর্ণ হলুদ, সবুজ এবং কখনো কখনো পুঁজ কিম্বা রক্ত মিশ্রিত হইতে পারে। সুস্থ অবস্থায় জরায়ু ও জরায়ু গ্রবিার অভ্যন্তরস্থ আবরক পর্দা মধ্যস্থ গ্রন্থিসমূহ হইতে এবং যোনিপথের আবরক ঝিল্লী হইতে স্বল্প পরিমানে লালার ন্যায় শ্লেষ্মা নির্গত হইয় যোনিপথ সিক্ত রাখে। যৌবন সমাগম, অন্তঃসত্তা অবস্থায় এবং কাহারও বা প্রতি মাসে ঋতুপ্রকাশের অব্যবহিত পূর্বে এইরূপ শ্লেষ্মাস্রাবের কিঞ্চত বৃদ্ধি হয়। কিন্তু তাহাকে প্রদর স্রাব বলা হয় না। স্রাবের পরিমান অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাইয়া যোনিপথে নির্গত হইলেই তাহাকে প্রদর স্রাব বলা হয়। প্রদর কখনো কখনো কেবলমাত্র যোনির আবরক পর্দার প্রদাহ বা ভ্যাজাইনাইটিস বশতঃ হইতে পারে। সচরাচর জরায়ু অথবা জরায়ু গ্রীবার আবরক পর্দার প্রদাহ বা এন্ডোমেট্রাইটিস অথবা এন্ডোসার্ভিসাইটিস উদ্ভব হইয়া পরবর্রতীকালে যোনির আবরক পর্দা আক্রান্ত হয়।

কারণ ঃ
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব বা উপযুক্ত পরিবেশের অবাব একটি প্রদান কারণ।
  • জনন যন্ত্রে বীজানুর দুষণ থেকে এটি হতে পারে। মনিলিয়্যাল বা ট্রিপানোস বীজানু এর কারণেও হতে পারে।
  • গনোরিয়া বা সিফিলিস হলে পরবর্তীতে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
  • যোনি বা জরায়ুর প্রাচীন প্রদাহ থেকে হয়।
  • বার বার গর্ভপাত থেকেও হতে পারে।
লক্ষণ ঃ
  • জরায়ু হতে অনিয়মিতভাবে সাদাস্রাব বের হতে থাকে।
  • কখনো বা ঋতু বন্ধ হবার পর সাদাস্রাব শুরু হয় এবং তা চলতেই থাকে।
  • মাঝে মাঝে তার সঙ্গে লালচে স্রাব দুচার ফোঁটা বের হতে পারে।
  • Infection থাকলে তার জন্য যোনি চূলকাতে পারে।
  • হজমের গোলমাল, অম্ল প্রভৃতি থাকতে পারে।
  • মাথা ধরা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যাথা থাকে।
  • কখনো উদরাময়, কখনো বা কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
  •  শরীর খুব রোগ বা কৃশ হয়। অনেক সময় রোগী আবার স্থুলাঙ্গী হয়।
জটিল উপসর্গ ঃ বেশি দিন ধরে এটি চলতে থাকলে, তাতে শরীর দূর্বল হয়ে যায়। জরায়ুর প্রদারে সৃষ্টি হয় এবং এই প্রদাহ দীর্ঘ দিন চললে জরায়ুতে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 বিঃদ্রঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ঃ
ক্যালকেরিয়া কার্বঃ 
গন্ডমালা তধাতুগ্রস্ত রোগিনী যাহাদের পদদ্বয় সর্বদাই সিক্ত ও শীতল থাকে। যাহাদের ঠান্ডা আদৌ সহ্য হয় না তাহাদের জন্য উপযোগী। অতি শীঘ্র শীঘ্র প্রতি মাসে অন্তত দুইবার, অতিরিক্ত মাত্রায় অধিকদিন স্থায়ী রজঃস্রাব। ঋতুকালে উদরে ও কটিদেশে বেদনা এবং স্তনদ্বয় স্ফীত ও বেদনাযুক্ত হয় (কোনিয়াম, ল্যাক ক্যান) সামান্য কারনেই রক্তস্রাব (অ্যাম্ব্রা) অবন্ত হইলে অথবা সোপানারোহণকালে শিরোঘূর্ণন; স্তন দান কালে অতিরিক্ত রজঃস্রাব। হলুদাভ ঘন শ্লেষ্মাময় অথবা দুগ্ধের ন্যায় প্রদরস্রাবসহোনিমধ্যে জ্বালা ও চুলকানি, মূত্রত্যাগকালে অত্যধিক রজঃস্রাব।

বোরাক্সঃ
মেম্ব্রেনাস ডিসমেনোরিয়া। অথি শীঘ্র শীঘ্র অথ্যধিক পরিমাণে রজঃস্রাব হয় এবং তৎকালে  উদর হইতে পুষ্ঠ পর্যন্ত ঘৃষ্টবৎ বেদনা। জরায়ুতে খচখচানি বেদনা। প্রচুর পরিমাণে ডিম্বের শ্বেতাংশের ন্যায় উত্তপ্ত প্রদরস্রাব। রোগী নীচে নামতে ভয় পায়।

পালসেটিলাঃ 
বিলম্বিত স্বল্প রজঃস্রাব, সবিরামে দমকে দমকে ঘন কালচে ও ডেলাযুক্ত, কখনো বা ফিকাবর্ণের রজঃস্রাব। স্থান পরিবর্তনীল বেদনা, জরায়তে আক্ষেপিক বেদনার তীব্রতায় রোগিনী দ্বিভাজ হয়, ক্রন্দন করে ও ছটফট করে, দিবাভাগে ও চলাফেরা করিলে অধিক স্রাব হয়। রাত্রিকালে অল্প হয়। দুধের ন্যায় তরল অথবা ঘন শ্বেতবর্ণের, বিদাহী শ্লেষ্মাময় প্রদর স্রাব। শয়নকালে কিম্বা ঋতুস্রাবের পূর্বে ও তৎকালে বৃদ্ধি, প্রদরস্রাববশত যোনিকপাটের প্রদাহ। শান্ত ও মৃদু প্রকৃতি, প্রশ্রুপ্রবনা রমনীগণ, যাহারা সদাই শীতার্ততা বোধ করিলেও গৃহের উষ্ণতা সহ্য করিতে পারে না ও মুক্ত বায়ুতে ধীরে ধীরে চলাফেরা করিলে স্বস্তি বোধ করেন তাঁহাদের জরায়ুর স্থানচ্যুতি, প্রোল্যপ্স প্রভৃতি না প্রকার রোগে বিশষ হিতকর।

সিপিয়াঃ 
উদর হইতে উধ্র্বমুখী উত্তপের ঝলকসহ সর্বাঙ্গে ঘর্ম, উদ্বেগ ও মুর্ছার ভাব, বিমর্ষতা, ক্রন্দশীলতা, উদাসীনাত, গন্ডের উপরিভাগ ও নাসিকার উপর হলুদাব ধুসরবর্ণের কলঙ্ক। উদরে অস্বস্তিকর শূন্যতা বোধ আহারে উপশম; কোষ্ঠ বদ্ধতা, দুর্গন্ধময় মূত্র প্রভৃতি লক্ষণ বর্তমান থাকিলে সিপিয়া উপযোগী। জরায়ু নিম্নাভিমুখে ঠেলিয়া যোনিপথে বহির্গত হইবার ন্যায় অনুভূতিবশতঃ উরুদ্বয় আড়া আড়িভাবে চাপিয়া ধরিতে হয়। জরায়ু গ্রীবা হইতে উধ্র্বমুখে নাভিদেশ পর্যন্ত সুচীবিদ্ধবত তীব্র যন্ত্রনাসহ প্রচুর পরিমানে হলুদাভ সবুজ অথা দুগ্ধের ন্যায় কিম্বা পুঁজের ন্যায় দুর্গদ্ধযুক্ত স্রাব দিবাভাগে এবং মূত্র ত্যাগের পর অধিক স্রাব হয়। যোনিপথ চুলকায় এবং উরু হাজিয়া যায়। জরায়ু স্ফিত এবং কঠিন। জরায়ুর স্থানচ্যুতি ও প্রোল্যাপ্স। সঙ্গমকালে অসহনীয় কষ্ট, সঙ্গমে বিতৃষ্ণা।

এলউমিনাঃ 
প্রদরস্রাব এত প্রচুর পরিমাণে হয় যে, ভিতরে কাপড় পরা না থাকিলে পাছা বাহিয়া পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত স্রবা গড়াইয়া পড়ে। শ্বেতপ্রদর পরিমানে প্রচুর, তাহার রং প্রায় সাদা, কখনও কখনও হরিদ্রাভ এবং উহা মধুর ন্যায় চটচটে। তাহ দিলে চিটের মত জড়াইয়া যায়। রোগিনীর নাক চোখ মূখ শুষ্ক থাকে এটি এলিউমিনার বিশেষত্ব।

ক্রিয়োজোটঃ 
প্রদরস্রাব পচা দুর্গন্ধযুক্ত যেখানে লাগে হেজে যায়, জ্বলে যায় ও সেখানে চুলকায়।  স্রাব কাপড়ে লাগিলে হলদে দাগ হয়। বহুদিন স্থায়ী রক্তস্রাবও এই ঔষধের বিশেষ লক্ষণ।





Friday, August 21, 2015

Dysmenorrhoea and Homeopathic Treatment (বাধক বেদনা এবং তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা)

Dysmenorrhoea (বাধক বেদনা)
মাসিক ঋতুস্রাবের সহিত তলপেটে ও সাধারণভাবে শারীরিক মৃদু অস্বস্তিবোধ হওয়াই স্বাভাকি। কিন্তু ঋতুস্রাব অত্যধিক যন্ত্রণাদায়ক হইলে তাহাকে বাধক বেদনা বা Dysmenorrhoea বলে।

Spasmodic Dysmenorroea (মাংসপেশির সংকোচন বা আক্ষেপজনিত বাধক বেদনা)- প্রতিবার ঋতুস্রাব হইবার এক বা দুইদিন পূর্বে তলপেটে তীব্র আক্ষেপিক বেদনা ও সেক্রাম প্রদেশে টাটানি যন্ত্রণা হইতে থাকে। স্নায়ুশূলেন ন্যায় বেদনা উরু বাহিয়া বিস্তৃত হয় এবং তৎসহ  বমিবমিভাব, বমন, দূর্বলতা, মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা, বারবার মূত্রবেগ ইত্যাদি উপসর্গ প্রকাশ পায়।

Congestive Dysmenorrhea (কনজেসটিভ বাধক বেদনা)- ঠান্ডা লাগিয়া, মানসিক উত্তেজনা অথবা অবসাদ অথবা subinvolution of the uterus (প্রসবের পর জরায়ুর আয়তন স্বাভাবিক না হইলে) Uterus Tumor, Salpingitis, প্রভৃতি বশত জরায় প্রায় সর্বক্ষণই রাক্তাধিক্য অবস্থায় থাকে। মাসিক ঋতুকালে রাক্তধিক্য বর্ধিত হইয়া ঋতু-শূল উপস্থিত হয়। ঋতু প্রকাশ হইবার ৪/৫ দিন পূর্ব হইতেই বেদনা আরম্ভ হয় তৎসহ মস্তকে রক্তাধিক্য, প্যালপিটেশান, জ্বর প্রভৃতি প্রকাশ পায়। অধিক স্রাব শুরু হইলে বেদনা ও অন্যান্য উপসর্গাদি দূর হয়।

 Obstructive Dysmenorrhea (কোন কারনে স্রাব বাধাপ্রাপ্ত হইয়া বাধক বেদনা)- Cervical canal এর সংকীর্ণতা বশতঃ ঋতুস্রাবের বহিঃনিসরণ বাধাপ্রাপ্ত হইয়া তাহা অশেষ বেদনাদায়ক হইয়া উঠে। জরায়ুর রিট্রোভার্সান প্রভৃতি স্থানচ্যুতিবশতঃ জরায়ু গ্রীবার বক্রতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইহার অন্যতম কারন। জরায়ু কিংবা জরায়ু গ্রীবার মধ্যে অর্বুদজনিত কারনেও এইরূপ হইতে পারে।
নোট ঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

চিকিৎসাঃ উপযুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য, মুক্তবায়ুতে যথাসম্ভব অঙ্গচালনা প্রভৃতি স্বাস্থ্যেন্নতিকারক বিধি ব্যবস্থাদি অবলম্বন  করা প্রয়োজন। অত্যধিক বেদনায় তলপেটে তাপ-প্রয়োগ  এবং উষ্ণ জলে কটিদেশে নিমজ্জিত করিয়া উপবেশনে যন্ত্রণা প্রশমিত হয়।

ঔষধঃ
  • ঋতুস্রাবের পূর্বে বেদনা, বেদনা সহসা আসে সহসা যায়, মনে হয় জরায়ু বাহির হইয়া পড়িবে এইরূপ বেদনা। সময় সময় চাপ চাপ রক্ত পড়া। কোমর তলপেট ফাটিয়া যাওয়ার মত অনুভব হয়।- বেলেডোনা।
  • জরায়ুতে চাপবোধ, যেন প্রসব হইবে, উরুতে ছিড়িয়া ফেলার মত বেদনা, উরুতে ও কোমরে বেদনা, কালচে রক্তচাপ, অসহ্য বেদনা, খিটখিটে স্বভাব।- ক্যামোমিলা।
  • প্রসব বেদনার ন্যায় বেদনা, তলপেটে টাটানি, পৃষ্ঠদেশ বেদনা, উরুতে ও কোমরে বেদনা, প্রচুর বা অল্প পরিমানে রক্তস্রাব, বমি, স্তনের নীচে বেদনা, ইহা বাধকের উৎকৃষ্ট ঔষধ। পালসেটিলা উপকার না হইলে ইহা ব্যবহার্য।- সিমিসিফউগা।
  • অত্যধিক বেদনা, শীতবোধ, তন্দ্রাভাব।- পালসেটিলা।
  • তলপেটে সূচ বেঁধার মত বেদনা, প্রচুর স্রাব।-কলোফাইলাম।
  • জরায়ুতে আক্ষেপ,  ঋতুশূল, বন্ধাত্ব্ থাকিলে উপযোগী, নীচের দিকে নামতে ভয়, পেটের বামদিকে অধিক বেদনা।- বোরাক্স। 
এছাড়াও নাক্সভম, ক্যালকেরিয়া কার্ব, লিলিয়াম, কোনিয়াম, কলচিকাম, জেলসেমিয়াম, সিপিয়া, হেলোনিয়াস লক্ষণবেদে ইত্যাদি ঔষধ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation) ‍and Homeopathic treatment

অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation)

সাধারণত নারীদের ২৮ দিন পর পর ঋতুস্রাব হয়ে থাকে এবং ৪-৫ দিন পর্যন্ত স্থায় থাকে। নানা কারনে এই স্রাব নিয়মিত হয় না কখনো দেরীতে হয় কখনো বা দ্রুত হয়। নারী দেহ হতে জননেন্দ্রীয়ের মাধ্যমে এই স্রাব এরকম অস্বাভাবিক নির্গত হওয়াকেই অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation) বলে। নানা কারনে এই স্রাব অনিয়মিত হতে পারে। নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-

অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation) এর কারণ ঃ 
  • রক্তশূন্যতা ‍এর একটি প্রধান কারন।
  • ডিম্বকোষ থেকে নিঃস্বরন ঠিকমতো হয় না।
  • হরমোনের অভাব এবং গোলমাল।
  • জরায় ও ডিম্বকোষে রোগ হতে পারে।
  • দেহের স্বাভাবিক পুষ্টির অভাব।
  • দেহের ও যৌনাঙ্গের পূর্ণ গঠনের গোলমাল।
  • গণোরিয়া, সিফিলিস প্রভৃতি রোগ থেকে।   
অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation) এর লক্ষণ ঃ 
  • ঋতু-স্রাব হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় কখনো কখনো ২০/২৫ দিন বা তারও বেশী বন্ধ থাকে।
  • কখনো কখনো ঋতু শুরু হবার পর ১০ বা ১৫ দিন ধরে কম বেশী চলতে থাকে।
  • কখনো ঠিক চলে কখনো বা হঠাৎ নানা গোলমাল দেখা দিয়ে থাকে।
  • কখনো তলপেটে ব্যাথ হয়ে থাকে।
  • কখনো বা কালচে মতো রক্ত স্রাব হয়ে থাকে।
  • কখনো বা রক্তে ছোট ছোট কাল রক্তের টুকরা দেখা দেয়।
নোট ঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

ঔষধাবলী ঃ
  • নিদ্র্রিষ্ট সময়ের আগে ঋতুস্রাব হলে কোনিয়াম খাওয়া উচিত। এতে আরোগ্য না হলে পালসেটিলা দেওয়া যেতে পারে। লােইকোপোডিয়াম এবং চায়না পর্যায়ক্রমে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  • ১০/১৫ দিন অন্তর অন্তর ঋতু স্রাব হলে- ইগ্নেশিয়া, বেলেডোনা, ক্যালকেরিয়া কার্ব, নেট্রাম মিউর দেওয়া যেতে পারে।
  • বহু বিলম্বে ঋতুস্রাব হতে থাকলে (৩০-৪০ দিন) ক্যালকেরিয়া কার্ব, ল্যাকেসিস, পালসেটিলা, সালফার দেওয়া যেতে পারে।
  • ঋতু দীর্ঘস্থায়ী হলে- একোনাইট, বেলেডোনা, ইগ্নেশিয়া, নাক্সভম বা সালফার দেওয়া যেতে পারে।

  আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাঃ
  • ঠান্ডা লাগা, রাত জাগা, অনিয়ম, নেশা পান প্রভৃতি নিষিদ্ধ।
  • প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খেতে হবে- মাছ, দুধ, ছানা, মাংস, ডিম, সয়াবিন, কাজুবাদাম প্রভৃতি।
  • ভিটামিনযুক্ত শাকসব্জি খেতে হবে- টমেটোনিদ্র্রিষ্, গাজর, পালং শাক, ভিজানো ছোলা প্রভৃতি।
  • স্রাব কম বা ফোটা ফোটা হবার জন্য ব্যথা থাকলে গরম সেঁক (তলপেটে) উপকার পাওয়া যাবে। বেশী স্রাব হলে ঠান্ডা জল বা বরফ লাগালে উপকার হয়।

Thursday, August 20, 2015

ঋতু-রোধ (Amenorrhoea) বা ঋতুস্রাবে বিলম্ব (Delayed Menstruation)

ঋতু-রোধ (Amenorrhoea) বা ঋতুস্রাবে বিলম্ব (Delayed Menstruation)

জরায়ুমধ্যে উপযুক্ত শোনিতক্ষরণের অভাব অথবা তন্মধ্যে হইতে শোনিত নিঃসরনে বাধা যে কোন কারনেই হোক যথা সময়ে ঋতু স্রাব প্রকাশ না পাইলে তাকে ঋতুরোধ বা Amenorrhoea বলে।
ঋতু-স্রাবে বিলম্ব সাধারণত দুইভাবে দেখা যায়-
১. Primary Amenorrhoea- প্রথম ঋতু-রোধ বা Primary Delayed Menstruation- প্রথম ঋতুতে বিলম্ব।
২. ‍Secondary Amenorrhoea-ঋতু চলাকালে ঋতু-রোধ বা Secondary Delayed Menstruation-ঋতু চলাকালে ঋতু বিলম্ব।

 ১. Primary Amenorrhoea- প্রথম ঋতু-রোধ বা Primary Delayed Menstruation- প্রথম ঋতুতে বিলম্বঃ সাধারণত গ্রীষ্ম প্রধান দেশে সকল নারীর ঋতু-স্রাব আরম্ভ হয় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে। কখনো কখনো নানা কারনে মেয়েদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছর পার হলেও ঋতু-স্রাব দেখা দেয় না। এ ক্ষেত্রে মেয়েদের জননেন্দ্রীয়, জরায়ু, স্তনদ্বয় প্রভৃতি অপুষ্ট থাকে এবং তাহার দৈহিক গঠন সর্বাংশে অল্প বয়স্ক বালিকাদের ন্যায় দেখায়। Primary Amenorrhoea- প্রথম ঋতু-রোধ বা Primary Delayed Menstruation- প্রথম ঋতুতে বিলম্ব হওয়ার কারণগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো-
  • দেহে নারী হরমোন বা স্ত্রী জাতীয় হরমোনের অভাব। Oestrone জাতীয় হরমোন নারীর দেহে যৌবন আগমন ঘটায়। নারীর ঋতুর শুরুতে এর ক্রিয়া থাকে, তাকে আবার নিয়ন্ত্রণ করে প্রধানত- Posterior Pituitary Gland এবং এড্রেনাল গ্রন্থির নিঃসৃত হরমোন। যদি নারীর ডিম্বাশয়ে হরমোন নিঃস্বরন ঠিকমত না হয় কিম্বা অন্য দুটি গ্রন্থির নিঃসরণ কম হয় তা হলে উপযুক্ত বয়সে নারীর ডিম্বকোষ ও ডিম্ব ঠিক মত গঠিত হতে পারে না। 
  • নারীর জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের জন্মগত অপরিণতি বা ঠিকমতো বর্ধিত না হওয়া।
  • নারীর দেহে পুষ্টির অভাব এবং তার জন্য দেহের গঠন ঠিকমতো না হওয়া।
  • রক্তশূণ্যতা ও তার জন্য ঠিকমতো বয়সে ঋতু শুরু না হওয়া।
  • প্রথম ঋতু তশুরু হওয়ার আগেই যকন ডিম্বটি বা Primordial Follicle টি বর্ধিত হয়ে Graffian Follicle হয়ে ডিম্বনালীতে আসার সঙ্গে সঙ্গে, যদি ঔ নারী পুরুষ সংসর্গ করে তা হলে সে গর্ভবতী হয়ে যাবে। তার ঋতুর শুরু হবেই না আদৌ এবং তার প্রথম গর্ভ সঞ্চার হবে ঋতুর শুরুতে দেরী মনে হবে।
 লক্ষণ ঃ
  •  সাধারণত এটি হলে নারীর শরীর হবে কৃশ ও রক্তশূন্য। তার দেহ স্ত্রীজনোচিত গঠন হয় না। বক্ষ ঠিকমতো উন্নত হয় না। 
  • অনেক সময় দেহে স্পষ্ট রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
  • মাথা ভার, ব্যাথা, বুক ধড়ফড় করা, দেহের নানা দুর্বলতাজনিত কষ্ট হয়।
  • অনেক সময় চেহারাতে কৈশোরের বাব না এসে বাল্যের ভাবই বর্তমান থাকে।
  • জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের পূর্ণ স্বাভাবিক গঠন হয় না।
 ২. ‍Secondary Amenorrhoea-ঋতু চলাকালে ঋতু-রোধ বা Secondary Delayed Menstruation-ঋতু চলাকালে ঋতু বিলম্ব প্রাথমিক ঋতু-স্রাব হইবার পর অথবা একাধিকবার ঋতুস্রাব হইবার পর পুনরায় ঋতু রুদ্ধ হইলে তাহাকে ‍Secondary Amenorrhoea-ঋতু চলাকালে ঋতু-রোধ বা Secondary Delayed Menstruation-ঋতু চলাকালে ঋতু বিলম্ব বলে। গর্ভধারন এবং রজনিবৃত্তিকালে যে ঋতু-রোধ সংঘঠিত হয় তাহাও এই শ্রেণীভুক্ত তবে তাহা রোগ নয়। নানা কারণে নারীদের এমন সমস্যা সৃষ্টি হতে দেখা যায় নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
  • দেহে হরমোনের অভাব হলে।
  • জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অপরিনতি।
  • রক্তহীনতার জন্যও এমন হতে পারে।
  • উপযুক্ত খাদ্য ও পুষ্টির অভাব।
  • ডিম্বাশয়, ডিম্বনালী প্রভৃতি গঠনের জন্য ঠিক মতো বা সময় মতো ডিম্বর বৃদ্ধি বা জাায়ুর অসুস্থতার জন্য ঠিক সময়ে ঋতু না হওয়া।
  • জরায়ুর নানা রোগ থাকলে।

 লক্ষণ ঃ
  •  অনেক সময় দেহে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।
  • দেহের গঠন কৃশকায় হয় দেহ ঠিকমতো বর্ধিত ও পুষ্ট হয় না তাদের।
  • অনেক সময় হরমোনের গোলমালে দেহ খুব স্থুলকায় হয়। কিন্তু ঋতুর গোলমাল দেখা যায়।
  • মাথাধরা, মাথা ব্যাথা, মাথা ভার প্রভৃতি লক্ষণ  দেখা দিতে পারে।
  • তলপেট ভারবোধ, শরীর অসুস্থ, গা ম্যাজ ম্যাজ করা, খুব বেশি ক্লন্তিবোধ প্রভৃতি দেখা দিতে পারে।
  • কখনো ঋতু খুব সামান্য হয়েই হঠাৎ বন্ধ হয়। কখনো দেরীতে হলেও ঋতু বেশি হয়।
  • অনেক সময় পেট, বুক ও স্তনে ব্যাথা হতে পারে।
  • অনেক সময় উরুতে ভার বোধ।
  • শ্বাস প্রশ্বাসের কষ্ট দেখা দিতে পারে।
  • মন অবসন্ন হয় ও কাজে ঠিকমতো মন বসে না।
নোট ঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

চিকিৎসাঃ ঋতু চলা কালে বা ঋতু বন্ধ হলে আগে দেখতে হবে গর্ভ সঞ্চার হয়েছে কিনা। কোন ভাল চিকিৎসকে দ্বারা পরীক্ষা করা অবশ্য কর্তব্য। যদি তা না হয় তবে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। পুষ্টিকর হালকা খাদ্য দিতে হবে। মাছের ঝোল, মাংসের সুপ, ভাত, ডিম সেদ্ধ, বাদাম, ভেজা ছোলা, টমেটো, পালং শাক, গাজর, কপি, ছানা, দুধ, ক্ষীর, দই প্রভৃতি খাবার দিতে হবে।

ঔষধাবলী ঃ
পালসেটিলা, সালফার, সিপিয়া, একোনাইট, ব্রায়োনিয়া, বিরেট্রাম এলবা, নেট্রাম মিউর, সাইক্লেমেন, ক্যালকেরিয়া ফস, ফেরাম ফস, লাইকোপডিয়াম, ব্যাসিলিনাম, ক্যালি আয়োড, চায়না, সিমিসিফিওগা।

Wednesday, August 19, 2015

ঋতু-শূল (Menstrual Colic)

ঋতু-শূল (Menstrual Colic) :
স্ত্রীলোকদিগের মাসিক ঋতুস্রাবকালে কয়েকঘন্টা বা কয়েকদিন পূর্ব হইতে প্রায়ই তাহাদের বস্তি-প্রদেশ হইতে এক প্রকার শূল প্রকৃতির সবিরাম বেদনার উদ্ভব হয়। কখনো কখনো ঋতুস্রাবকালেও ইহার আবির্ভাব হইয়া থাকে। স্ত্রীলোগদিগের ঋতুস্রাবকালেই এই প্রকার বেদনার উদ্ভব হয় বলিয়া ইহাকে ঋতু-শূল বা Menstrual Colic  বলে।

ইহা ডিসমেনোরিয়ার একটি প্রকট লক্ষণ। এবং অতি অল্প স্ত্রীলোকই ইহার আক্রমণ হইতে মুক্ত থাকে। কেহ কেহ রজঃস্বলা হইবার পূর্ব হইতে রজঃনিবৃত্তি কাল পর্যন্ত প্রতি ঋতুকালে এই প্রকার শূল বেদনা ভোগ করিয়া থাকেন। এই বেদনা জরায়ু হইতে উৎপন্ন হয় বলিয়া মনে হয় এবং ইহার প্রকৃতি প্রজ্বলনশীল অথবা প্রকৃত স্নায়ু শূলবৎ।

ইহা প্রায়ই প্রসব বেদনার অনুকরণ করিয়া থাকে এবং অল্পাধিক কাল ব্যাবধানে বারম্বার ইহার পূনরাক্রমণ সংঘটিত হইতে থাকে। ‍ইহা সাধারণত ঋতুস্রাবের পূর্বে আরম্ভ হয় এবং ঋতুস্রাব যথাবিধি সূচিত হইলে বিলুপ্ত হইয়া যায়। ঋতুস্রাবকালে ইহার আবির্ভাব হইলে, কখনো কখনো অল্পাধিক কাল স্রাব বন্ধ থাকে ও প্রায় স্ত্রী জননেন্দ্রীয় হইতে পর্দা পিন্ডবৎ বস্তু নিষ্ক্রান্ত হইয়া স্রাব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। কখনো কখনো উক্তরূপ স্রাব প্রতিরূদ্ধ হইলে স্তদ্বয় স্ফীত, স্পর্শাসহ, এমনকি, বেদনার্ত হইয়া থাকে। 

বিশেষতঃ পদদ্বয়ে, জীবনধারা প্রণালীর অমিতাচারে অথবা ঋতুস্রাবকালে অনিষ্টকর বা অনুচিত ঔষধ গ্রহনে এইরূপ শূল-বেদনার আবির্ভাব হইয়া থাকে।

নোট ঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

ঔষধাবলী ঃ
ঋতুস্রাবের পূর্বে সূচিত হইলে- বেলেডোনা, ক্যালকেরিয়া, ক্যামোমিলা, প্ল্যাটিনা, পালসেটিলা শ্রেষ্ট। রোগী লক্ষণসমূহে উক্ত ঔষধ অনুপযুক্ত বিবেচিত হইলে, অ্যালুমিনা, অ্যামুনিয়াম, ব্যারাইটা, কষ্টিকাম গ্রাফাইটিস, লাইকোপডিয়াম, নাইট্রাম, ফসফরাস অথবা সিপিয়া।

ঋতুস্রাবকালে সূচিত হইলে- বেলেডোনা, ক্যালকেরিয়া, ক্যামোমিলা,  গ্রাফাইটিস, ফসফরাস, পালসেটিলা, সিপিয়া, সালফার শ্রেষ্ট। রোগী লক্ষণসমূহে উক্ত ঔষধ অনুপযুক্ত বিবেচিত হইলে, কক্কুলাস, কফিয়া, ইগ্নেশিয়া, নাক্স ভমিকা, অথবা সিকেলী। তাহাও অসম্পূর্ণ মনে হলে- অ্যাগনাস, অ্যালুমিনা, অ্যামন কার্ব বা মিউর, চায়না, কোনিয়াম, সাইলিসিয়া অথবা সালফার। ইহা ছাড়াও কার্বোভেজ, ক্রিয়োজোট, লাইকোপডিয়াম, ম্যাগ কার্ব, মার্ক সল, সার্সাপেরিলা, ষ্ট্যানাম, ষ্ট্রামোনিয়াম অথবা সালফিউরিক এ্যাসিড।

ঋতুস্রাবের পর সূচিত হইলে- ল্যাকেসিস, পালসেটিলা অথবা ভেরাট্রাম।

উপরোক্ত ঔষধ ব্যতিত অ্যাকোনাইট, ব্রায়োনিয়া, কুপ্রাম, সিকেলী প্রভৃতি ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে।