Sunday, August 23, 2015

Leucorrhoea ‍and its Homeopathic treatment (প্রদর স্রাব এবং তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা)

Leucorrhoea (প্রদর স্রাব)
মাসিক ঋতুস্রাব ব্যতীত কখনো কখনো যোনিপথে শ্লেষ্মার ন্যায় স্রাব নির্গত হয়। ইহাকে প্রদর বা Leucorrhoea বলে। ঋতুস্রাব শুরু হইবার পূর্বেও বালিকাগণের এইরূপ হইতে পারে। সাধারনতঃ শ্বেত বর্ণের স্রাব হয় বলিয়া ইহাকে শ্বেত প্রদর বলে। ক্ষেত্র বিশেষে স্রাবের বর্ণ হলুদ, সবুজ এবং কখনো কখনো পুঁজ কিম্বা রক্ত মিশ্রিত হইতে পারে। সুস্থ অবস্থায় জরায়ু ও জরায়ু গ্রবিার অভ্যন্তরস্থ আবরক পর্দা মধ্যস্থ গ্রন্থিসমূহ হইতে এবং যোনিপথের আবরক ঝিল্লী হইতে স্বল্প পরিমানে লালার ন্যায় শ্লেষ্মা নির্গত হইয় যোনিপথ সিক্ত রাখে। যৌবন সমাগম, অন্তঃসত্তা অবস্থায় এবং কাহারও বা প্রতি মাসে ঋতুপ্রকাশের অব্যবহিত পূর্বে এইরূপ শ্লেষ্মাস্রাবের কিঞ্চত বৃদ্ধি হয়। কিন্তু তাহাকে প্রদর স্রাব বলা হয় না। স্রাবের পরিমান অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাইয়া যোনিপথে নির্গত হইলেই তাহাকে প্রদর স্রাব বলা হয়। প্রদর কখনো কখনো কেবলমাত্র যোনির আবরক পর্দার প্রদাহ বা ভ্যাজাইনাইটিস বশতঃ হইতে পারে। সচরাচর জরায়ু অথবা জরায়ু গ্রীবার আবরক পর্দার প্রদাহ বা এন্ডোমেট্রাইটিস অথবা এন্ডোসার্ভিসাইটিস উদ্ভব হইয়া পরবর্রতীকালে যোনির আবরক পর্দা আক্রান্ত হয়।

কারণ ঃ
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব বা উপযুক্ত পরিবেশের অবাব একটি প্রদান কারণ।
  • জনন যন্ত্রে বীজানুর দুষণ থেকে এটি হতে পারে। মনিলিয়্যাল বা ট্রিপানোস বীজানু এর কারণেও হতে পারে।
  • গনোরিয়া বা সিফিলিস হলে পরবর্তীতে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
  • যোনি বা জরায়ুর প্রাচীন প্রদাহ থেকে হয়।
  • বার বার গর্ভপাত থেকেও হতে পারে।
লক্ষণ ঃ
  • জরায়ু হতে অনিয়মিতভাবে সাদাস্রাব বের হতে থাকে।
  • কখনো বা ঋতু বন্ধ হবার পর সাদাস্রাব শুরু হয় এবং তা চলতেই থাকে।
  • মাঝে মাঝে তার সঙ্গে লালচে স্রাব দুচার ফোঁটা বের হতে পারে।
  • Infection থাকলে তার জন্য যোনি চূলকাতে পারে।
  • হজমের গোলমাল, অম্ল প্রভৃতি থাকতে পারে।
  • মাথা ধরা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যাথা থাকে।
  • কখনো উদরাময়, কখনো বা কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
  •  শরীর খুব রোগ বা কৃশ হয়। অনেক সময় রোগী আবার স্থুলাঙ্গী হয়।
জটিল উপসর্গ ঃ বেশি দিন ধরে এটি চলতে থাকলে, তাতে শরীর দূর্বল হয়ে যায়। জরায়ুর প্রদারে সৃষ্টি হয় এবং এই প্রদাহ দীর্ঘ দিন চললে জরায়ুতে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 বিঃদ্রঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ঃ
ক্যালকেরিয়া কার্বঃ 
গন্ডমালা তধাতুগ্রস্ত রোগিনী যাহাদের পদদ্বয় সর্বদাই সিক্ত ও শীতল থাকে। যাহাদের ঠান্ডা আদৌ সহ্য হয় না তাহাদের জন্য উপযোগী। অতি শীঘ্র শীঘ্র প্রতি মাসে অন্তত দুইবার, অতিরিক্ত মাত্রায় অধিকদিন স্থায়ী রজঃস্রাব। ঋতুকালে উদরে ও কটিদেশে বেদনা এবং স্তনদ্বয় স্ফীত ও বেদনাযুক্ত হয় (কোনিয়াম, ল্যাক ক্যান) সামান্য কারনেই রক্তস্রাব (অ্যাম্ব্রা) অবন্ত হইলে অথবা সোপানারোহণকালে শিরোঘূর্ণন; স্তন দান কালে অতিরিক্ত রজঃস্রাব। হলুদাভ ঘন শ্লেষ্মাময় অথবা দুগ্ধের ন্যায় প্রদরস্রাবসহোনিমধ্যে জ্বালা ও চুলকানি, মূত্রত্যাগকালে অত্যধিক রজঃস্রাব।

বোরাক্সঃ
মেম্ব্রেনাস ডিসমেনোরিয়া। অথি শীঘ্র শীঘ্র অথ্যধিক পরিমাণে রজঃস্রাব হয় এবং তৎকালে  উদর হইতে পুষ্ঠ পর্যন্ত ঘৃষ্টবৎ বেদনা। জরায়ুতে খচখচানি বেদনা। প্রচুর পরিমাণে ডিম্বের শ্বেতাংশের ন্যায় উত্তপ্ত প্রদরস্রাব। রোগী নীচে নামতে ভয় পায়।

পালসেটিলাঃ 
বিলম্বিত স্বল্প রজঃস্রাব, সবিরামে দমকে দমকে ঘন কালচে ও ডেলাযুক্ত, কখনো বা ফিকাবর্ণের রজঃস্রাব। স্থান পরিবর্তনীল বেদনা, জরায়তে আক্ষেপিক বেদনার তীব্রতায় রোগিনী দ্বিভাজ হয়, ক্রন্দন করে ও ছটফট করে, দিবাভাগে ও চলাফেরা করিলে অধিক স্রাব হয়। রাত্রিকালে অল্প হয়। দুধের ন্যায় তরল অথবা ঘন শ্বেতবর্ণের, বিদাহী শ্লেষ্মাময় প্রদর স্রাব। শয়নকালে কিম্বা ঋতুস্রাবের পূর্বে ও তৎকালে বৃদ্ধি, প্রদরস্রাববশত যোনিকপাটের প্রদাহ। শান্ত ও মৃদু প্রকৃতি, প্রশ্রুপ্রবনা রমনীগণ, যাহারা সদাই শীতার্ততা বোধ করিলেও গৃহের উষ্ণতা সহ্য করিতে পারে না ও মুক্ত বায়ুতে ধীরে ধীরে চলাফেরা করিলে স্বস্তি বোধ করেন তাঁহাদের জরায়ুর স্থানচ্যুতি, প্রোল্যপ্স প্রভৃতি না প্রকার রোগে বিশষ হিতকর।

সিপিয়াঃ 
উদর হইতে উধ্র্বমুখী উত্তপের ঝলকসহ সর্বাঙ্গে ঘর্ম, উদ্বেগ ও মুর্ছার ভাব, বিমর্ষতা, ক্রন্দশীলতা, উদাসীনাত, গন্ডের উপরিভাগ ও নাসিকার উপর হলুদাব ধুসরবর্ণের কলঙ্ক। উদরে অস্বস্তিকর শূন্যতা বোধ আহারে উপশম; কোষ্ঠ বদ্ধতা, দুর্গন্ধময় মূত্র প্রভৃতি লক্ষণ বর্তমান থাকিলে সিপিয়া উপযোগী। জরায়ু নিম্নাভিমুখে ঠেলিয়া যোনিপথে বহির্গত হইবার ন্যায় অনুভূতিবশতঃ উরুদ্বয় আড়া আড়িভাবে চাপিয়া ধরিতে হয়। জরায়ু গ্রীবা হইতে উধ্র্বমুখে নাভিদেশ পর্যন্ত সুচীবিদ্ধবত তীব্র যন্ত্রনাসহ প্রচুর পরিমানে হলুদাভ সবুজ অথা দুগ্ধের ন্যায় কিম্বা পুঁজের ন্যায় দুর্গদ্ধযুক্ত স্রাব দিবাভাগে এবং মূত্র ত্যাগের পর অধিক স্রাব হয়। যোনিপথ চুলকায় এবং উরু হাজিয়া যায়। জরায়ু স্ফিত এবং কঠিন। জরায়ুর স্থানচ্যুতি ও প্রোল্যাপ্স। সঙ্গমকালে অসহনীয় কষ্ট, সঙ্গমে বিতৃষ্ণা।

এলউমিনাঃ 
প্রদরস্রাব এত প্রচুর পরিমাণে হয় যে, ভিতরে কাপড় পরা না থাকিলে পাছা বাহিয়া পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত স্রবা গড়াইয়া পড়ে। শ্বেতপ্রদর পরিমানে প্রচুর, তাহার রং প্রায় সাদা, কখনও কখনও হরিদ্রাভ এবং উহা মধুর ন্যায় চটচটে। তাহ দিলে চিটের মত জড়াইয়া যায়। রোগিনীর নাক চোখ মূখ শুষ্ক থাকে এটি এলিউমিনার বিশেষত্ব।

ক্রিয়োজোটঃ 
প্রদরস্রাব পচা দুর্গন্ধযুক্ত যেখানে লাগে হেজে যায়, জ্বলে যায় ও সেখানে চুলকায়।  স্রাব কাপড়ে লাগিলে হলদে দাগ হয়। বহুদিন স্থায়ী রক্তস্রাবও এই ঔষধের বিশেষ লক্ষণ।





No comments: