Showing posts with label Female Diseases (স্ত্রী রোগ). Show all posts
Showing posts with label Female Diseases (স্ত্রী রোগ). Show all posts

Sunday, August 27, 2017

নারীদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব (Irregular menstruation) – কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা পরামর্শ-

 
নারীদের অনিয়মিত ঋতু :-
নারীদের ১১-১৩ বছর বয়স হতে প্রতি ২৮ দিনে জরায়ুদ্বার দিয়ে সামান্য কালো লাল বর্ণের স্রাব হয়। যা ঋতুস্রাব নামে পরিচিত। সাধারণত এই স্রাব ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত  বর্তমান থাকে। স্রাবের পরিমাণ এবং সময়ক্ষণ এর কোন ব্যতিক্রম হলেই তাকে অনিয়মিত ঋতুস্রাব বা Irregular Menstruation বলে বিবেচনা করা হয়।
নারীদের অনিয়মিত ঋতু স্রাবের কারণঃ-
বিভিন্ন কারণে নারীদের ঋতুস্রাব অনিয়মিত পারে, নিম্নে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হওয়ার কারণগুলো উল্লেখ করা হলো-
  • সন্তানসম্ভবা হলে এবং সন্তান জন্মের পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।
  • দেহের স্বাভাবিক পুষ্টির অভাব হলে।
  • জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতিতে কোন পিল ব্যবহার।
  • খাদ্যাভাসে ত্রুটি যেমনঃ ক্ষুধামন্দার কারনে মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে। আবার ওজন অতিরিক্ত কমে গেলে ও অতিরিক্ত অনুশীলনের কারণে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে।
  • পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বা পি-সি-ও-এস (PCOS) হলো একটি হরমোনজনিত ব্যাধি বা ত্রুটি। এ অবস্থায় ডিম্বাশয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির সিস্ট দেখা দেয়। যার ফলে এ রোগে আক্রান্ত হলে মহিলাদের মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
  • অপরিণত অবস্থায় ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে গেলে একজন মহিলার দীর্ঘসময়ের জন্য মাসিক অনিয়মিত হয়ে যায়। এ অবস্থায় একজন মহিলার ৪০ বছর বয়সের পূর্বেই ডিম্বাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে।
  • পেল্ভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ বা পি-আই-ডি (PID) তে আক্রান্ত হলে মহিলাদের জননেন্দ্রিয়ে ইনফেকশন হয়, যার ফলে মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
  • Uterine fibroids হল জরায়ুর এক প্রকারের টিউমার। তবে এই টিউমার ক্যান্সার সৃষ্টি করে না। জরায়ুতে টিউমার হলে মাসিকের সময় অধিক রক্তপাত হয় ও মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
  •  দেহের হরমোন জনিত গোলযোগ বা হরমোনের অভাব।
  • দেহে রক্ত শুন্যতার ভাব থাকলে।
  • গনোরিয়া, সিফিলিস জাতীয় কঠিন প্রকৃতির রোগ থাকলে।

নারীদের অনিয়মিত ঋতুর লক্ষণ :- 
নারীদের ঋতুস্রাব অনিয়মিত হলে বেশ কিছু  লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :

  • ·       ঋতুস্রাব হঠাৎ ২/৩ মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকে। কখনো বা ৪/৫ মাস পর্যন্ত বন্ধ থেকে হঠাৎ অধিক পরিমানে স্রাব অথবা ১০/১৫ দিন পর্যন্ত অল্প অল্প স্রাব নিঃসরণ হয়। 
  • ·         কখনও স্বাভাবিক নিয়মের চেয়ে অনেক পূর্বেই ঋতু স্রাব শুরু হয়।
  • ·         মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (Heavy menstrual flow)
  • ·         মাসিকের সময় ব্যথা হওয়া (Painful menstruation)
  • ·         যোনী দিয়ে স্রাব নির্গত হওয়া (Vaginal discharge)
  • ·         দীর্ঘায়িত মাসিক (Long menstrual periods)
  • ·         মাংসপেশীর খিঁচুনি/টান (Cramps and spasms)
  • ·         রোগী তলপেটে (Sharp abdominal pain) ভয়fনক ব্যথা অনুভব করে। কখনো বা কালচে বর্ণের রক্তস্রাব হতে থাকে। কখনো বা স্রাবের রক্তে ছোট ছোট কালো টুকরা দেখা যায়।
  • ·         তলপেটে খিল ধরার মত ব্যথা, প্রসব বেদনার মত ব্যথা, বার বার মল ত্যাগের প্রবৃত্তি, কোষ্ঠকাঠিন্যের ভাব ইত্যাদি।
  • ·         পেল্ভিসে বা শ্রোণীচক্রে ব্যথা হওয়া (Pelvic pain)
  • ·         অনৈচ্ছিক মূত্রত্যাগ (Involuntary urination)
  • ·         মাসিকের পূর্বে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেওয়া (Premenstrual tension or irritability)

স্বাস্থ্য পরামর্শঃ-
মা বোনদের অনেককেই এই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। গ্রামগঞ্জে মহিলারা বিষয়টি নিয়ে নানা প্রকার কুসংস্কারের শিকার হয়ে থাকেন এবং বছরের পর বছর প্রপার ট্রিটমেন্ট না নেয়ার কারণে ভুগতে ভুগতে শারীরিক স্বাস্থ্যকে প্র্রায় হাড্ডিসার করে তুলেন। শুধু তাই নয়, শহুরে শিক্ষিত অনেক তরুণীদেরকেও দেখা যায় বিষয়টি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না থাকার কারণে যথাযথ চিকিৎসা না নিয়ে রোগটি পোষে রাখে এবং একসময় এর থেকে আরো জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে বসে। হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিজ্ঞানে অনিয়মিত ঋতুস্রাব নির্মূলের সম্পূর্ণ আরোগ্যকারী সমাধান রয়েছে। কিছু দিন যথাযথ হোমিও ট্রিটমেন্ট নিলে মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব রোগ পরুপুরি দূর হয়ে আবার ঋতুস্রাব স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাই এতে আক্রান্ত হলে কোন প্রকার সংকোচ না করে ভালো এবং অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিত্সকের স্মরনাপন্ন হোন এবং প্রপার ট্রিটমেন্ট নিন, আশা করি খুব শীঘ্রই সুস্থ এবং স্বাভাবিক হয়ে উঠবেন।
বিঃদ্রঃ মাসিকের সময় সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন ও প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। এছাড়াও রক্তপাত বেশি হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম নি এবং প্রয়োজনে একজন অভিজ্ঞ এবং ভাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নি


Sunday, August 23, 2015

Leucorrhoea ‍and its Homeopathic treatment (প্রদর স্রাব এবং তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা)

Leucorrhoea (প্রদর স্রাব)
মাসিক ঋতুস্রাব ব্যতীত কখনো কখনো যোনিপথে শ্লেষ্মার ন্যায় স্রাব নির্গত হয়। ইহাকে প্রদর বা Leucorrhoea বলে। ঋতুস্রাব শুরু হইবার পূর্বেও বালিকাগণের এইরূপ হইতে পারে। সাধারনতঃ শ্বেত বর্ণের স্রাব হয় বলিয়া ইহাকে শ্বেত প্রদর বলে। ক্ষেত্র বিশেষে স্রাবের বর্ণ হলুদ, সবুজ এবং কখনো কখনো পুঁজ কিম্বা রক্ত মিশ্রিত হইতে পারে। সুস্থ অবস্থায় জরায়ু ও জরায়ু গ্রবিার অভ্যন্তরস্থ আবরক পর্দা মধ্যস্থ গ্রন্থিসমূহ হইতে এবং যোনিপথের আবরক ঝিল্লী হইতে স্বল্প পরিমানে লালার ন্যায় শ্লেষ্মা নির্গত হইয় যোনিপথ সিক্ত রাখে। যৌবন সমাগম, অন্তঃসত্তা অবস্থায় এবং কাহারও বা প্রতি মাসে ঋতুপ্রকাশের অব্যবহিত পূর্বে এইরূপ শ্লেষ্মাস্রাবের কিঞ্চত বৃদ্ধি হয়। কিন্তু তাহাকে প্রদর স্রাব বলা হয় না। স্রাবের পরিমান অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাইয়া যোনিপথে নির্গত হইলেই তাহাকে প্রদর স্রাব বলা হয়। প্রদর কখনো কখনো কেবলমাত্র যোনির আবরক পর্দার প্রদাহ বা ভ্যাজাইনাইটিস বশতঃ হইতে পারে। সচরাচর জরায়ু অথবা জরায়ু গ্রীবার আবরক পর্দার প্রদাহ বা এন্ডোমেট্রাইটিস অথবা এন্ডোসার্ভিসাইটিস উদ্ভব হইয়া পরবর্রতীকালে যোনির আবরক পর্দা আক্রান্ত হয়।

কারণ ঃ
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব বা উপযুক্ত পরিবেশের অবাব একটি প্রদান কারণ।
  • জনন যন্ত্রে বীজানুর দুষণ থেকে এটি হতে পারে। মনিলিয়্যাল বা ট্রিপানোস বীজানু এর কারণেও হতে পারে।
  • গনোরিয়া বা সিফিলিস হলে পরবর্তীতে এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
  • যোনি বা জরায়ুর প্রাচীন প্রদাহ থেকে হয়।
  • বার বার গর্ভপাত থেকেও হতে পারে।
লক্ষণ ঃ
  • জরায়ু হতে অনিয়মিতভাবে সাদাস্রাব বের হতে থাকে।
  • কখনো বা ঋতু বন্ধ হবার পর সাদাস্রাব শুরু হয় এবং তা চলতেই থাকে।
  • মাঝে মাঝে তার সঙ্গে লালচে স্রাব দুচার ফোঁটা বের হতে পারে।
  • Infection থাকলে তার জন্য যোনি চূলকাতে পারে।
  • হজমের গোলমাল, অম্ল প্রভৃতি থাকতে পারে।
  • মাথা ধরা, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যাথা থাকে।
  • কখনো উদরাময়, কখনো বা কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
  •  শরীর খুব রোগ বা কৃশ হয়। অনেক সময় রোগী আবার স্থুলাঙ্গী হয়।
জটিল উপসর্গ ঃ বেশি দিন ধরে এটি চলতে থাকলে, তাতে শরীর দূর্বল হয়ে যায়। জরায়ুর প্রদারে সৃষ্টি হয় এবং এই প্রদাহ দীর্ঘ দিন চললে জরায়ুতে টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 বিঃদ্রঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ঃ
ক্যালকেরিয়া কার্বঃ 
গন্ডমালা তধাতুগ্রস্ত রোগিনী যাহাদের পদদ্বয় সর্বদাই সিক্ত ও শীতল থাকে। যাহাদের ঠান্ডা আদৌ সহ্য হয় না তাহাদের জন্য উপযোগী। অতি শীঘ্র শীঘ্র প্রতি মাসে অন্তত দুইবার, অতিরিক্ত মাত্রায় অধিকদিন স্থায়ী রজঃস্রাব। ঋতুকালে উদরে ও কটিদেশে বেদনা এবং স্তনদ্বয় স্ফীত ও বেদনাযুক্ত হয় (কোনিয়াম, ল্যাক ক্যান) সামান্য কারনেই রক্তস্রাব (অ্যাম্ব্রা) অবন্ত হইলে অথবা সোপানারোহণকালে শিরোঘূর্ণন; স্তন দান কালে অতিরিক্ত রজঃস্রাব। হলুদাভ ঘন শ্লেষ্মাময় অথবা দুগ্ধের ন্যায় প্রদরস্রাবসহোনিমধ্যে জ্বালা ও চুলকানি, মূত্রত্যাগকালে অত্যধিক রজঃস্রাব।

বোরাক্সঃ
মেম্ব্রেনাস ডিসমেনোরিয়া। অথি শীঘ্র শীঘ্র অথ্যধিক পরিমাণে রজঃস্রাব হয় এবং তৎকালে  উদর হইতে পুষ্ঠ পর্যন্ত ঘৃষ্টবৎ বেদনা। জরায়ুতে খচখচানি বেদনা। প্রচুর পরিমাণে ডিম্বের শ্বেতাংশের ন্যায় উত্তপ্ত প্রদরস্রাব। রোগী নীচে নামতে ভয় পায়।

পালসেটিলাঃ 
বিলম্বিত স্বল্প রজঃস্রাব, সবিরামে দমকে দমকে ঘন কালচে ও ডেলাযুক্ত, কখনো বা ফিকাবর্ণের রজঃস্রাব। স্থান পরিবর্তনীল বেদনা, জরায়তে আক্ষেপিক বেদনার তীব্রতায় রোগিনী দ্বিভাজ হয়, ক্রন্দন করে ও ছটফট করে, দিবাভাগে ও চলাফেরা করিলে অধিক স্রাব হয়। রাত্রিকালে অল্প হয়। দুধের ন্যায় তরল অথবা ঘন শ্বেতবর্ণের, বিদাহী শ্লেষ্মাময় প্রদর স্রাব। শয়নকালে কিম্বা ঋতুস্রাবের পূর্বে ও তৎকালে বৃদ্ধি, প্রদরস্রাববশত যোনিকপাটের প্রদাহ। শান্ত ও মৃদু প্রকৃতি, প্রশ্রুপ্রবনা রমনীগণ, যাহারা সদাই শীতার্ততা বোধ করিলেও গৃহের উষ্ণতা সহ্য করিতে পারে না ও মুক্ত বায়ুতে ধীরে ধীরে চলাফেরা করিলে স্বস্তি বোধ করেন তাঁহাদের জরায়ুর স্থানচ্যুতি, প্রোল্যপ্স প্রভৃতি না প্রকার রোগে বিশষ হিতকর।

সিপিয়াঃ 
উদর হইতে উধ্র্বমুখী উত্তপের ঝলকসহ সর্বাঙ্গে ঘর্ম, উদ্বেগ ও মুর্ছার ভাব, বিমর্ষতা, ক্রন্দশীলতা, উদাসীনাত, গন্ডের উপরিভাগ ও নাসিকার উপর হলুদাব ধুসরবর্ণের কলঙ্ক। উদরে অস্বস্তিকর শূন্যতা বোধ আহারে উপশম; কোষ্ঠ বদ্ধতা, দুর্গন্ধময় মূত্র প্রভৃতি লক্ষণ বর্তমান থাকিলে সিপিয়া উপযোগী। জরায়ু নিম্নাভিমুখে ঠেলিয়া যোনিপথে বহির্গত হইবার ন্যায় অনুভূতিবশতঃ উরুদ্বয় আড়া আড়িভাবে চাপিয়া ধরিতে হয়। জরায়ু গ্রীবা হইতে উধ্র্বমুখে নাভিদেশ পর্যন্ত সুচীবিদ্ধবত তীব্র যন্ত্রনাসহ প্রচুর পরিমানে হলুদাভ সবুজ অথা দুগ্ধের ন্যায় কিম্বা পুঁজের ন্যায় দুর্গদ্ধযুক্ত স্রাব দিবাভাগে এবং মূত্র ত্যাগের পর অধিক স্রাব হয়। যোনিপথ চুলকায় এবং উরু হাজিয়া যায়। জরায়ু স্ফিত এবং কঠিন। জরায়ুর স্থানচ্যুতি ও প্রোল্যাপ্স। সঙ্গমকালে অসহনীয় কষ্ট, সঙ্গমে বিতৃষ্ণা।

এলউমিনাঃ 
প্রদরস্রাব এত প্রচুর পরিমাণে হয় যে, ভিতরে কাপড় পরা না থাকিলে পাছা বাহিয়া পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত স্রবা গড়াইয়া পড়ে। শ্বেতপ্রদর পরিমানে প্রচুর, তাহার রং প্রায় সাদা, কখনও কখনও হরিদ্রাভ এবং উহা মধুর ন্যায় চটচটে। তাহ দিলে চিটের মত জড়াইয়া যায়। রোগিনীর নাক চোখ মূখ শুষ্ক থাকে এটি এলিউমিনার বিশেষত্ব।

ক্রিয়োজোটঃ 
প্রদরস্রাব পচা দুর্গন্ধযুক্ত যেখানে লাগে হেজে যায়, জ্বলে যায় ও সেখানে চুলকায়।  স্রাব কাপড়ে লাগিলে হলদে দাগ হয়। বহুদিন স্থায়ী রক্তস্রাবও এই ঔষধের বিশেষ লক্ষণ।





Friday, August 21, 2015

Dysmenorrhoea and Homeopathic Treatment (বাধক বেদনা এবং তার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা)

Dysmenorrhoea (বাধক বেদনা)
মাসিক ঋতুস্রাবের সহিত তলপেটে ও সাধারণভাবে শারীরিক মৃদু অস্বস্তিবোধ হওয়াই স্বাভাকি। কিন্তু ঋতুস্রাব অত্যধিক যন্ত্রণাদায়ক হইলে তাহাকে বাধক বেদনা বা Dysmenorrhoea বলে।

Spasmodic Dysmenorroea (মাংসপেশির সংকোচন বা আক্ষেপজনিত বাধক বেদনা)- প্রতিবার ঋতুস্রাব হইবার এক বা দুইদিন পূর্বে তলপেটে তীব্র আক্ষেপিক বেদনা ও সেক্রাম প্রদেশে টাটানি যন্ত্রণা হইতে থাকে। স্নায়ুশূলেন ন্যায় বেদনা উরু বাহিয়া বিস্তৃত হয় এবং তৎসহ  বমিবমিভাব, বমন, দূর্বলতা, মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা, বারবার মূত্রবেগ ইত্যাদি উপসর্গ প্রকাশ পায়।

Congestive Dysmenorrhea (কনজেসটিভ বাধক বেদনা)- ঠান্ডা লাগিয়া, মানসিক উত্তেজনা অথবা অবসাদ অথবা subinvolution of the uterus (প্রসবের পর জরায়ুর আয়তন স্বাভাবিক না হইলে) Uterus Tumor, Salpingitis, প্রভৃতি বশত জরায় প্রায় সর্বক্ষণই রাক্তাধিক্য অবস্থায় থাকে। মাসিক ঋতুকালে রাক্তধিক্য বর্ধিত হইয়া ঋতু-শূল উপস্থিত হয়। ঋতু প্রকাশ হইবার ৪/৫ দিন পূর্ব হইতেই বেদনা আরম্ভ হয় তৎসহ মস্তকে রক্তাধিক্য, প্যালপিটেশান, জ্বর প্রভৃতি প্রকাশ পায়। অধিক স্রাব শুরু হইলে বেদনা ও অন্যান্য উপসর্গাদি দূর হয়।

 Obstructive Dysmenorrhea (কোন কারনে স্রাব বাধাপ্রাপ্ত হইয়া বাধক বেদনা)- Cervical canal এর সংকীর্ণতা বশতঃ ঋতুস্রাবের বহিঃনিসরণ বাধাপ্রাপ্ত হইয়া তাহা অশেষ বেদনাদায়ক হইয়া উঠে। জরায়ুর রিট্রোভার্সান প্রভৃতি স্থানচ্যুতিবশতঃ জরায়ু গ্রীবার বক্রতা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইহার অন্যতম কারন। জরায়ু কিংবা জরায়ু গ্রীবার মধ্যে অর্বুদজনিত কারনেও এইরূপ হইতে পারে।
নোট ঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

চিকিৎসাঃ উপযুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য, মুক্তবায়ুতে যথাসম্ভব অঙ্গচালনা প্রভৃতি স্বাস্থ্যেন্নতিকারক বিধি ব্যবস্থাদি অবলম্বন  করা প্রয়োজন। অত্যধিক বেদনায় তলপেটে তাপ-প্রয়োগ  এবং উষ্ণ জলে কটিদেশে নিমজ্জিত করিয়া উপবেশনে যন্ত্রণা প্রশমিত হয়।

ঔষধঃ
  • ঋতুস্রাবের পূর্বে বেদনা, বেদনা সহসা আসে সহসা যায়, মনে হয় জরায়ু বাহির হইয়া পড়িবে এইরূপ বেদনা। সময় সময় চাপ চাপ রক্ত পড়া। কোমর তলপেট ফাটিয়া যাওয়ার মত অনুভব হয়।- বেলেডোনা।
  • জরায়ুতে চাপবোধ, যেন প্রসব হইবে, উরুতে ছিড়িয়া ফেলার মত বেদনা, উরুতে ও কোমরে বেদনা, কালচে রক্তচাপ, অসহ্য বেদনা, খিটখিটে স্বভাব।- ক্যামোমিলা।
  • প্রসব বেদনার ন্যায় বেদনা, তলপেটে টাটানি, পৃষ্ঠদেশ বেদনা, উরুতে ও কোমরে বেদনা, প্রচুর বা অল্প পরিমানে রক্তস্রাব, বমি, স্তনের নীচে বেদনা, ইহা বাধকের উৎকৃষ্ট ঔষধ। পালসেটিলা উপকার না হইলে ইহা ব্যবহার্য।- সিমিসিফউগা।
  • অত্যধিক বেদনা, শীতবোধ, তন্দ্রাভাব।- পালসেটিলা।
  • তলপেটে সূচ বেঁধার মত বেদনা, প্রচুর স্রাব।-কলোফাইলাম।
  • জরায়ুতে আক্ষেপ,  ঋতুশূল, বন্ধাত্ব্ থাকিলে উপযোগী, নীচের দিকে নামতে ভয়, পেটের বামদিকে অধিক বেদনা।- বোরাক্স। 
এছাড়াও নাক্সভম, ক্যালকেরিয়া কার্ব, লিলিয়াম, কোনিয়াম, কলচিকাম, জেলসেমিয়াম, সিপিয়া, হেলোনিয়াস লক্ষণবেদে ইত্যাদি ঔষধ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation) ‍and Homeopathic treatment

অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation)

সাধারণত নারীদের ২৮ দিন পর পর ঋতুস্রাব হয়ে থাকে এবং ৪-৫ দিন পর্যন্ত স্থায় থাকে। নানা কারনে এই স্রাব নিয়মিত হয় না কখনো দেরীতে হয় কখনো বা দ্রুত হয়। নারী দেহ হতে জননেন্দ্রীয়ের মাধ্যমে এই স্রাব এরকম অস্বাভাবিক নির্গত হওয়াকেই অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation) বলে। নানা কারনে এই স্রাব অনিয়মিত হতে পারে। নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-

অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation) এর কারণ ঃ 
  • রক্তশূন্যতা ‍এর একটি প্রধান কারন।
  • ডিম্বকোষ থেকে নিঃস্বরন ঠিকমতো হয় না।
  • হরমোনের অভাব এবং গোলমাল।
  • জরায় ও ডিম্বকোষে রোগ হতে পারে।
  • দেহের স্বাভাবিক পুষ্টির অভাব।
  • দেহের ও যৌনাঙ্গের পূর্ণ গঠনের গোলমাল।
  • গণোরিয়া, সিফিলিস প্রভৃতি রোগ থেকে।   
অনিয়মিত ঋতু-স্রাব (Irregular Menstruation) এর লক্ষণ ঃ 
  • ঋতু-স্রাব হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় কখনো কখনো ২০/২৫ দিন বা তারও বেশী বন্ধ থাকে।
  • কখনো কখনো ঋতু শুরু হবার পর ১০ বা ১৫ দিন ধরে কম বেশী চলতে থাকে।
  • কখনো ঠিক চলে কখনো বা হঠাৎ নানা গোলমাল দেখা দিয়ে থাকে।
  • কখনো তলপেটে ব্যাথ হয়ে থাকে।
  • কখনো বা কালচে মতো রক্ত স্রাব হয়ে থাকে।
  • কখনো বা রক্তে ছোট ছোট কাল রক্তের টুকরা দেখা দেয়।
নোট ঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

ঔষধাবলী ঃ
  • নিদ্র্রিষ্ট সময়ের আগে ঋতুস্রাব হলে কোনিয়াম খাওয়া উচিত। এতে আরোগ্য না হলে পালসেটিলা দেওয়া যেতে পারে। লােইকোপোডিয়াম এবং চায়না পর্যায়ক্রমে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  • ১০/১৫ দিন অন্তর অন্তর ঋতু স্রাব হলে- ইগ্নেশিয়া, বেলেডোনা, ক্যালকেরিয়া কার্ব, নেট্রাম মিউর দেওয়া যেতে পারে।
  • বহু বিলম্বে ঋতুস্রাব হতে থাকলে (৩০-৪০ দিন) ক্যালকেরিয়া কার্ব, ল্যাকেসিস, পালসেটিলা, সালফার দেওয়া যেতে পারে।
  • ঋতু দীর্ঘস্থায়ী হলে- একোনাইট, বেলেডোনা, ইগ্নেশিয়া, নাক্সভম বা সালফার দেওয়া যেতে পারে।

  আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাঃ
  • ঠান্ডা লাগা, রাত জাগা, অনিয়ম, নেশা পান প্রভৃতি নিষিদ্ধ।
  • প্রোটিন জাতীয় খাদ্য খেতে হবে- মাছ, দুধ, ছানা, মাংস, ডিম, সয়াবিন, কাজুবাদাম প্রভৃতি।
  • ভিটামিনযুক্ত শাকসব্জি খেতে হবে- টমেটোনিদ্র্রিষ্, গাজর, পালং শাক, ভিজানো ছোলা প্রভৃতি।
  • স্রাব কম বা ফোটা ফোটা হবার জন্য ব্যথা থাকলে গরম সেঁক (তলপেটে) উপকার পাওয়া যাবে। বেশী স্রাব হলে ঠান্ডা জল বা বরফ লাগালে উপকার হয়।

Thursday, August 20, 2015

ঋতু-রোধ (Amenorrhoea) বা ঋতুস্রাবে বিলম্ব (Delayed Menstruation)

ঋতু-রোধ (Amenorrhoea) বা ঋতুস্রাবে বিলম্ব (Delayed Menstruation)

জরায়ুমধ্যে উপযুক্ত শোনিতক্ষরণের অভাব অথবা তন্মধ্যে হইতে শোনিত নিঃসরনে বাধা যে কোন কারনেই হোক যথা সময়ে ঋতু স্রাব প্রকাশ না পাইলে তাকে ঋতুরোধ বা Amenorrhoea বলে।
ঋতু-স্রাবে বিলম্ব সাধারণত দুইভাবে দেখা যায়-
১. Primary Amenorrhoea- প্রথম ঋতু-রোধ বা Primary Delayed Menstruation- প্রথম ঋতুতে বিলম্ব।
২. ‍Secondary Amenorrhoea-ঋতু চলাকালে ঋতু-রোধ বা Secondary Delayed Menstruation-ঋতু চলাকালে ঋতু বিলম্ব।

 ১. Primary Amenorrhoea- প্রথম ঋতু-রোধ বা Primary Delayed Menstruation- প্রথম ঋতুতে বিলম্বঃ সাধারণত গ্রীষ্ম প্রধান দেশে সকল নারীর ঋতু-স্রাব আরম্ভ হয় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে। কখনো কখনো নানা কারনে মেয়েদের বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছর পার হলেও ঋতু-স্রাব দেখা দেয় না। এ ক্ষেত্রে মেয়েদের জননেন্দ্রীয়, জরায়ু, স্তনদ্বয় প্রভৃতি অপুষ্ট থাকে এবং তাহার দৈহিক গঠন সর্বাংশে অল্প বয়স্ক বালিকাদের ন্যায় দেখায়। Primary Amenorrhoea- প্রথম ঋতু-রোধ বা Primary Delayed Menstruation- প্রথম ঋতুতে বিলম্ব হওয়ার কারণগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো-
  • দেহে নারী হরমোন বা স্ত্রী জাতীয় হরমোনের অভাব। Oestrone জাতীয় হরমোন নারীর দেহে যৌবন আগমন ঘটায়। নারীর ঋতুর শুরুতে এর ক্রিয়া থাকে, তাকে আবার নিয়ন্ত্রণ করে প্রধানত- Posterior Pituitary Gland এবং এড্রেনাল গ্রন্থির নিঃসৃত হরমোন। যদি নারীর ডিম্বাশয়ে হরমোন নিঃস্বরন ঠিকমত না হয় কিম্বা অন্য দুটি গ্রন্থির নিঃসরণ কম হয় তা হলে উপযুক্ত বয়সে নারীর ডিম্বকোষ ও ডিম্ব ঠিক মত গঠিত হতে পারে না। 
  • নারীর জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের জন্মগত অপরিণতি বা ঠিকমতো বর্ধিত না হওয়া।
  • নারীর দেহে পুষ্টির অভাব এবং তার জন্য দেহের গঠন ঠিকমতো না হওয়া।
  • রক্তশূণ্যতা ও তার জন্য ঠিকমতো বয়সে ঋতু শুরু না হওয়া।
  • প্রথম ঋতু তশুরু হওয়ার আগেই যকন ডিম্বটি বা Primordial Follicle টি বর্ধিত হয়ে Graffian Follicle হয়ে ডিম্বনালীতে আসার সঙ্গে সঙ্গে, যদি ঔ নারী পুরুষ সংসর্গ করে তা হলে সে গর্ভবতী হয়ে যাবে। তার ঋতুর শুরু হবেই না আদৌ এবং তার প্রথম গর্ভ সঞ্চার হবে ঋতুর শুরুতে দেরী মনে হবে।
 লক্ষণ ঃ
  •  সাধারণত এটি হলে নারীর শরীর হবে কৃশ ও রক্তশূন্য। তার দেহ স্ত্রীজনোচিত গঠন হয় না। বক্ষ ঠিকমতো উন্নত হয় না। 
  • অনেক সময় দেহে স্পষ্ট রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
  • মাথা ভার, ব্যাথা, বুক ধড়ফড় করা, দেহের নানা দুর্বলতাজনিত কষ্ট হয়।
  • অনেক সময় চেহারাতে কৈশোরের বাব না এসে বাল্যের ভাবই বর্তমান থাকে।
  • জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের পূর্ণ স্বাভাবিক গঠন হয় না।
 ২. ‍Secondary Amenorrhoea-ঋতু চলাকালে ঋতু-রোধ বা Secondary Delayed Menstruation-ঋতু চলাকালে ঋতু বিলম্ব প্রাথমিক ঋতু-স্রাব হইবার পর অথবা একাধিকবার ঋতুস্রাব হইবার পর পুনরায় ঋতু রুদ্ধ হইলে তাহাকে ‍Secondary Amenorrhoea-ঋতু চলাকালে ঋতু-রোধ বা Secondary Delayed Menstruation-ঋতু চলাকালে ঋতু বিলম্ব বলে। গর্ভধারন এবং রজনিবৃত্তিকালে যে ঋতু-রোধ সংঘঠিত হয় তাহাও এই শ্রেণীভুক্ত তবে তাহা রোগ নয়। নানা কারণে নারীদের এমন সমস্যা সৃষ্টি হতে দেখা যায় নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ
  • দেহে হরমোনের অভাব হলে।
  • জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অপরিনতি।
  • রক্তহীনতার জন্যও এমন হতে পারে।
  • উপযুক্ত খাদ্য ও পুষ্টির অভাব।
  • ডিম্বাশয়, ডিম্বনালী প্রভৃতি গঠনের জন্য ঠিক মতো বা সময় মতো ডিম্বর বৃদ্ধি বা জাায়ুর অসুস্থতার জন্য ঠিক সময়ে ঋতু না হওয়া।
  • জরায়ুর নানা রোগ থাকলে।

 লক্ষণ ঃ
  •  অনেক সময় দেহে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।
  • দেহের গঠন কৃশকায় হয় দেহ ঠিকমতো বর্ধিত ও পুষ্ট হয় না তাদের।
  • অনেক সময় হরমোনের গোলমালে দেহ খুব স্থুলকায় হয়। কিন্তু ঋতুর গোলমাল দেখা যায়।
  • মাথাধরা, মাথা ব্যাথা, মাথা ভার প্রভৃতি লক্ষণ  দেখা দিতে পারে।
  • তলপেট ভারবোধ, শরীর অসুস্থ, গা ম্যাজ ম্যাজ করা, খুব বেশি ক্লন্তিবোধ প্রভৃতি দেখা দিতে পারে।
  • কখনো ঋতু খুব সামান্য হয়েই হঠাৎ বন্ধ হয়। কখনো দেরীতে হলেও ঋতু বেশি হয়।
  • অনেক সময় পেট, বুক ও স্তনে ব্যাথা হতে পারে।
  • অনেক সময় উরুতে ভার বোধ।
  • শ্বাস প্রশ্বাসের কষ্ট দেখা দিতে পারে।
  • মন অবসন্ন হয় ও কাজে ঠিকমতো মন বসে না।
নোট ঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

চিকিৎসাঃ ঋতু চলা কালে বা ঋতু বন্ধ হলে আগে দেখতে হবে গর্ভ সঞ্চার হয়েছে কিনা। কোন ভাল চিকিৎসকে দ্বারা পরীক্ষা করা অবশ্য কর্তব্য। যদি তা না হয় তবে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। পুষ্টিকর হালকা খাদ্য দিতে হবে। মাছের ঝোল, মাংসের সুপ, ভাত, ডিম সেদ্ধ, বাদাম, ভেজা ছোলা, টমেটো, পালং শাক, গাজর, কপি, ছানা, দুধ, ক্ষীর, দই প্রভৃতি খাবার দিতে হবে।

ঔষধাবলী ঃ
পালসেটিলা, সালফার, সিপিয়া, একোনাইট, ব্রায়োনিয়া, বিরেট্রাম এলবা, নেট্রাম মিউর, সাইক্লেমেন, ক্যালকেরিয়া ফস, ফেরাম ফস, লাইকোপডিয়াম, ব্যাসিলিনাম, ক্যালি আয়োড, চায়না, সিমিসিফিওগা।

Wednesday, August 19, 2015

ঋতু-শূল (Menstrual Colic)

ঋতু-শূল (Menstrual Colic) :
স্ত্রীলোকদিগের মাসিক ঋতুস্রাবকালে কয়েকঘন্টা বা কয়েকদিন পূর্ব হইতে প্রায়ই তাহাদের বস্তি-প্রদেশ হইতে এক প্রকার শূল প্রকৃতির সবিরাম বেদনার উদ্ভব হয়। কখনো কখনো ঋতুস্রাবকালেও ইহার আবির্ভাব হইয়া থাকে। স্ত্রীলোগদিগের ঋতুস্রাবকালেই এই প্রকার বেদনার উদ্ভব হয় বলিয়া ইহাকে ঋতু-শূল বা Menstrual Colic  বলে।

ইহা ডিসমেনোরিয়ার একটি প্রকট লক্ষণ। এবং অতি অল্প স্ত্রীলোকই ইহার আক্রমণ হইতে মুক্ত থাকে। কেহ কেহ রজঃস্বলা হইবার পূর্ব হইতে রজঃনিবৃত্তি কাল পর্যন্ত প্রতি ঋতুকালে এই প্রকার শূল বেদনা ভোগ করিয়া থাকেন। এই বেদনা জরায়ু হইতে উৎপন্ন হয় বলিয়া মনে হয় এবং ইহার প্রকৃতি প্রজ্বলনশীল অথবা প্রকৃত স্নায়ু শূলবৎ।

ইহা প্রায়ই প্রসব বেদনার অনুকরণ করিয়া থাকে এবং অল্পাধিক কাল ব্যাবধানে বারম্বার ইহার পূনরাক্রমণ সংঘটিত হইতে থাকে। ‍ইহা সাধারণত ঋতুস্রাবের পূর্বে আরম্ভ হয় এবং ঋতুস্রাব যথাবিধি সূচিত হইলে বিলুপ্ত হইয়া যায়। ঋতুস্রাবকালে ইহার আবির্ভাব হইলে, কখনো কখনো অল্পাধিক কাল স্রাব বন্ধ থাকে ও প্রায় স্ত্রী জননেন্দ্রীয় হইতে পর্দা পিন্ডবৎ বস্তু নিষ্ক্রান্ত হইয়া স্রাব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। কখনো কখনো উক্তরূপ স্রাব প্রতিরূদ্ধ হইলে স্তদ্বয় স্ফীত, স্পর্শাসহ, এমনকি, বেদনার্ত হইয়া থাকে। 

বিশেষতঃ পদদ্বয়ে, জীবনধারা প্রণালীর অমিতাচারে অথবা ঋতুস্রাবকালে অনিষ্টকর বা অনুচিত ঔষধ গ্রহনে এইরূপ শূল-বেদনার আবির্ভাব হইয়া থাকে।

নোট ঃ হোমিওপ্যাথিক একটি লক্ষণ ভিত্তিক সদৃশ্য বিধান চিকিৎসা। যে কোন ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রোগীর শারিরীক, মানসিক সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় লক্ষণের সহিত ঔষধের লক্ষণ মিলিয়ে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আপনার যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য দয়া করে একজন ভাল হোমিওপ্যাখিক ডাক্তার এর পরামর্শ গ্রহণ করুন। কোন ঔষধই ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতিত সেবন করা উচিত নয়।

ঔষধাবলী ঃ
ঋতুস্রাবের পূর্বে সূচিত হইলে- বেলেডোনা, ক্যালকেরিয়া, ক্যামোমিলা, প্ল্যাটিনা, পালসেটিলা শ্রেষ্ট। রোগী লক্ষণসমূহে উক্ত ঔষধ অনুপযুক্ত বিবেচিত হইলে, অ্যালুমিনা, অ্যামুনিয়াম, ব্যারাইটা, কষ্টিকাম গ্রাফাইটিস, লাইকোপডিয়াম, নাইট্রাম, ফসফরাস অথবা সিপিয়া।

ঋতুস্রাবকালে সূচিত হইলে- বেলেডোনা, ক্যালকেরিয়া, ক্যামোমিলা,  গ্রাফাইটিস, ফসফরাস, পালসেটিলা, সিপিয়া, সালফার শ্রেষ্ট। রোগী লক্ষণসমূহে উক্ত ঔষধ অনুপযুক্ত বিবেচিত হইলে, কক্কুলাস, কফিয়া, ইগ্নেশিয়া, নাক্স ভমিকা, অথবা সিকেলী। তাহাও অসম্পূর্ণ মনে হলে- অ্যাগনাস, অ্যালুমিনা, অ্যামন কার্ব বা মিউর, চায়না, কোনিয়াম, সাইলিসিয়া অথবা সালফার। ইহা ছাড়াও কার্বোভেজ, ক্রিয়োজোট, লাইকোপডিয়াম, ম্যাগ কার্ব, মার্ক সল, সার্সাপেরিলা, ষ্ট্যানাম, ষ্ট্রামোনিয়াম অথবা সালফিউরিক এ্যাসিড।

ঋতুস্রাবের পর সূচিত হইলে- ল্যাকেসিস, পালসেটিলা অথবা ভেরাট্রাম।

উপরোক্ত ঔষধ ব্যতিত অ্যাকোনাইট, ব্রায়োনিয়া, কুপ্রাম, সিকেলী প্রভৃতি ঔষধের প্রয়োজন হতে পারে।